স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মডেল

নিউজ ডেস্ক :

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও পরিবর্তনগুলো ইতিবাচক এবং এর জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক মডেল। তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বৈপ্লবিক উন্নতিগুলো এখন সারা পৃথিবীর স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্য গবেষক, স্বাস্থ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারক, স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতা সংস্থাদের কাছে রীতিমতো ‘মিরাকল’। ‘হাভার্ড’, ‘ক্যামব্রিজ’, ‘অক্সফোর্ড’, ‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’, ‘জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর’ সহ বর্তমান পৃথিবীর এমন কোনো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় নেই, যেখানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জাদুকরী উন্নতির মডেলগুলো পড়ানো হচ্ছে না। এবং এসবই সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে।

ইউনিসেফের ২০১৬ সালের জরিপ ও তথ্য বিশ্লেষণ অনুসারে, বাংলাদেশে নবজাতক শিশু মৃত্যুর হার কমে দাড়িয়েছে প্রতি হাজারে ২০.১ জন। অর্থাৎ, প্রতি ৫০.১ জন নবজাতক শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৪ বছর। ২০১৮ সালে এসে তা বেড়ে এখন প্রায় ৭৩ বছর হয়েছে ।

পরিবার পরিকল্পনা তথা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অনন্য উদাহরণ। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রতি নারী গড়ে ৭ জন সন্তান জন্মদান করতেন; আর ২০১৮ সালের গবেষণার তথ্যানুযায়ী সেই সংখ্যা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ১ জনে। ভারত এবং পাকিস্তানে এই সংখ্যা ৩ জন। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকারীর হার ছিল শতকরা ১০ জন আর বর্তমানে সেটা শতকরা ৬১ জন।

বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিকে জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কৃত করা হয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ টিকাদান কর্মসূচিতে এখনো বাংলাদেশের মতো সফলতা পায়নি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এখন পোলিওমুক্ত দেশ।

পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ প্রকল্পের সফলতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবি কর্তৃক ডায়রিয়া এবং কলেরার প্রতিষেধক হিসেবে খাবার স্যালাইন আবিষ্কার; ব্র্যাক কর্তৃক সারা বাংলাদেশে খাবার স্যালাইন বানানো প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি, পৃথিবীর ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই মহাষৌধ পৃথিবীব্যাপী প্রতিদিন কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করছে।

এই যে এত এত সাফল্য, এসবের কোনটাই কিন্তু খুব সহজ কাজ ছিল না। কারণ বাংলাদেশ স্বল্পসংখ্যক জনসংখ্যার ধনী কোন দেশ নয়। বরং সম্পদের সীমাবদ্ধতাসহ ঘন বসতিপূর্ণ বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশ। জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে এর অবস্থান ৮ম। সুতরাং, এমন একটি দেশের এত বড় বড় সাফল্য অর্জন কোনো বিচারেই সহজ সাধ্য ছিল না। অথচ, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অনেকগুলো সূচকে তার প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের সমান কিংবা কাছাকাছি পরিমাণ মাথাপিছু আয়ের দেশগুলোর তুলনায়, স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অন্য সকল খাতের মত স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মডেল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *