আশাশুনিতে শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ের যন্রনা সহ্য করতে না পেরে তাকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মাও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আশাশুনির উপজলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এদিকে, একই পরিবারের মা ও মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আত্মহননকারি মায়ের নাম শান্তি রানি মন্ডল (৩৬) ও মেয়ের নাম তমালিকা মন্ডল (৯)। শান্তি রানি মন্ডল ওই গ্রামর দিনমুজুর উত্তম মন্ডলর স্ত্রী।

স্থানীয় এলাকাবাসী নিরুত্তাম মন্ডলসহ একাধিক লোকজন জানান, দরিদ্র এ পরিবারটি শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অনেক দিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিলো। প্রতিবন্ধী মেয়ের যন্রনা সহ্য করতে না পেরে তাকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মাও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তারা জানান।

তবে উত্তম মন্ডলের বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী তদ্রা মন্ডল (১৩) জানান, তার বোন তমালিকা মন্ডল জন্মগতভাবে শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। বিভিন্ন সময় সে বাড়ির জিনিসপত্র ভাংচুর করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অশান্তি চরমে উঠে। তদ্রা আরাও জানান, তার মা প্রতিবন্ধি মেয়ের আচরন সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে খাবারের সাথে তামলিকাকে বিষ খাওয়ান। তমালিকা যখন বিষক্রিয়ায় ছটফট করছিল তখন মাও একই সাথে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা পথ বেছে নেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মা-মেয়ের দেহ নিথর হয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে প্রতিবশীরা স্থানীয়  ডাক্তারকে ডাকে নিয়ে আসের  কি ততক্ষনেই তারা দুইজনই মারা যায়। বেদনাদায়ক এ ঘটনার সময় উত্তম মন্ডল বাড়িতে ছিলেন না। তিনি ভার মাছের ঘেরে কাজ করত গিয়েছিলেন বলে আরাও জানায় তদ্রা মন্ডল।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান  আব্দুল আলিম জানান,আমিও ঘটনা শুনেছি। তবে প্রকৃত রহস্য কি তা এখনও জানা যায়নি।

এ ব্যাপার আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ের যন্রনা সহ্য করত না পেরে মা শান্তি রানী মন্ডল মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর তিনিও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে আমরা প্রাথমিকভাব জানতে পেরেছি। তবে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *