Main Menu

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে

 

 

আনোয়ারুল হক আনোয়ার : কথায় বলে, ”দূর্বল ব্যক্তি অবহেলার পাত্র” কিংবা ”সামরিক ক্ষেত্রে দূর্বল দেশের আকাশে শকুনের অানাগোনা বেড়ে যায় ” । আর্থিকভাবে দূর্বল উত্তর কোরিয়া আজ সকালে ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে । শুধু তাই নয়, নিজ ভূখন্ড অতিক্রম করে ক্ষেপনাস্ত্রটি ৫০০ শত কিলোমিটার দূরে চরম শত্রুদেশ জাপানের সমূদ্র সীমানায় আছড়ে পড়ে । ক্ষেপনাস্ত্রটির পাল্লা ৮০০শত কিলোমিটার । ইরানের সামরিক শক্তি দূর্বল থাকলে এতোদিনে ইরান পরাধীন হযে যেত । সামরিক শক্তিতে বলীয়ান চীনকে সকল দেশ সমীহ করে । পাকিস্তান পারমানবিক বোমার অধিকারী নাহলে এতদিনে দেশটি খন্ডবিখন্ড হয়ে যেত । উত্তর কোরিয়া পারমানবিক বোমার অধিকারী না হলে দেশটিকে অনেক আগেই দক্ষিন কোরিয়া, জাপান ও আমেরিকা গিলে ফেলত । লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্বারা সক্রিয় বিধায় ইসরাইলী হামলা থেকে অনেকটা নিস্তার পাচ্ছে ফিলিস্তিন ও লেবানীজরা। এক কথায় সামরিক শক্তি সম্পন্ন দেশকে অন্যরা গুরুত্ব দিয়ে থাকে । ফলে চলমান পরিস্থিতি প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তির বিকল্প নাই ।

 

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক গত ৯ ফেব্রুয়ারী রামু সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ”বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বসেরা হবে”। আমি তাঁর এ বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই । বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা শুধু দেশেই নয় বরং বিদেশেও  বেশ সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছে । জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য হিসেবে বাংলার বীর সেনানীরা প্রতিটি দেশের প্রশংসা কুড়িয়েছে । সিয়েরা লিওন বাংলা ভাষাকে তাদের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ এখন প্রথম স্থানে রয়েছে ।

 

বাংলাদেশের স্থলভাগের আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার । স্থলভাগের সম-পরিমান সমূদ্র অঞ্চলও রয়েছে । জনসংখ্যা ১৬ কোটি সেনাবাহিনী সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার, নৌবাহিনী সংখ্যা ১৭ হাজার ও বিমান বাহিনী সদস্য সংখ্যা ১৭ হাজার । সেনাবাহিনী ২৩টি ব্রিগেডসহ ৭টি পদাতিক ডিভিশনে বিভক্ত । মাত্র একটি সাজোঁয়া ব্রিগেড, ৭ টি গোলন্দাজ ব্রিগেড, ১টি এয়ার গোলন্দাজ ব্রিগেড, ১টি ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড, ১টি কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ও ২ টি এভিয়েশন স্কোয়াড্রন রয়েছে । এক কথায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে যে পরিমান জনবল ও সমরাস্ত্র রয়েছে সেটা প্রয়োজনের তূলনায় নগন্য বলে আমি মনে করি । তবে আশার কথা, সীমিত সম্পদের মাঝে সময়ের চাহিদা অনূযায়ী সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি চৌকশ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ।

 

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে । মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, চীন, আমেরিকা ও ভারত উত্তেজনা, রাশিয়ার সাথে আমেরিকার শীতল সম্পর্ক, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে আমেরিকা, দক্ষিন কোরিয়া ও জাপানের কঠোর নীতি এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী  মিয়ানমারের অসদ্বাচরন পরিবেশ বৈরী হয়ে উঠছে । চীন – ভারত,  পাক – ভারত কিংবা কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ব বাঁধলে এশিয়ার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠবে।  অপরদিকে বাংলাদেশের বিশাল সমূদ্র অঞ্চল নিরাপদ রাখতে সেনা বাহিনীর পাশাপাশি নৌ বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে হবে । বর্তমানে নৌবাহিনীতে  যে পরিমান লোকবল ও যুদ্ব উপকরন রয়েছে সেটা অনেক দরিদ্র রাষ্ট্রের চাইতেও কম । নৌ বাহিনীর জন্য আরো আধুনিক টহল ও যুদ্ব জাহাজ এবং অারো ছয়টি সাবমেরিন যুক্ত হলে বাংলাদেশের সমূদ্র পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আমার বিশ্বাস । আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার মাঝে মধ্যে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বসে । ফলে নৌ বাহিনীর গুরুত্বও অপরিসীম ।

 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ইরাক, সিরিয়া কিংবা উত্তর কোরিয়ার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে । যুদ্ব বিধ্বস্থ ইরাক ও সিরিয় সরকার তার বিমান বাহিনীকে গুরুত্ব প্রদান করে আসছে । এর অন্যতম কারনটি হচ্ছে, বর্তমানে স্থল বাহিনীর পরিবর্তে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে যুদ্ব বিমানের উপর নির্ভরশীল অধিকাংশ দেশ । শক্তিশালী বিমান বাহিনী শত্রু পক্ষের জন্য আতঙ্ক বিশেষ । বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে নতুন ও পূরোনো মিলিয়ে শতাধিক যুদ্ব বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে । এ সংখ্যা আরো বৃদ্বি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে । উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিতে সহাবস্থানে বিশ্বাসী।  কারো বিষয়ে হস্তক্ষেপ কিংবা আগ্রাসী নীতিতে বিশ্বাস করেনা। বাংলাদেশের জল। স্থল এ অাকাশপথ সুরক্ষিত রাখার লক্ষে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অারো শক্তিশালী করা সময়ের দাবী। সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন । দেশের সীমিত সম্পদের মাঝেও সরকার প্রতিরক্ষা সেক্টরের গুরুত্ব অনুধাবন করে অগ্রসর হচ্ছে ।

 

বাংলাদেশের চাইতে আর্থিকভাবে দূর্বল এমন অনেক দেশ রয়েছে যারা সামরিক শক্তিতে অনেকদূর এগিয়েছে । এর কারনটি হচ্ছে, বহি:শত্রুর হুমকি থেকে নিজ ভূখন্ড রক্ষা করা । একটি চৌকশ সশস্ত্র বাহিনী এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম যে কোন যুদ্ব কিংবা হুমকি মোকাবেলায় যথেষ্ট । উদাহরনস্বরুপ, লেবাননের জিহাদী সংগঠন হিজবুল্লাহ’র বড়জোর কুড়ি সহস্রাধিক যোদ্বা রয়েছে ।  হিজবুল্লাহ যোদ্বার শৃঙ্খলা, যুদ্ব কৌশল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র পরাশক্তির নিয়মিত বাহিনীকেও হার মানাবে । তাই লেবাননের হিজবুল্লাহ’কে নিয়ে ইসরাইল ও তার মিত্ররা উদ্বিগ্ন । বাংলাদেশ সকলের সাথে শান্তিতে সহাবস্থানে বিশ্বাসী তার পাশাপাশি যুগের সাাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে । এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা ।

 

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *