ভূয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরী করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

ওমর ফারুক (চট্টগ্রাম) চট্টগ্রামে বসবাসকারী এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভূঁয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরী করে একই পিতার ঔরষজাত ভাই বোনদেও বঞ্চিত করে রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার অধিবাসী এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্স এ ক্যাম্প প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সৈয়দুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে তিন বিবাহ করেন। তিন ঘরেই তার সন্তান সন্ততি রয়েছে। তাঁর প্রথম স্ত্রীর ঘরে একমাত্র পুত্র সন্তান ডাঃ মোঃ আব্দুল জলিল চৌধুরী। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে ৪ পুত্র  ও ৫ কন্যা যথাক্রমে মোঃ কামাল উদ্দিন চৌধুরী, মোঃ নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও মোঃ জসিম উদ্দীন চৌধুরী এবং ৫ কন্যা মৃত হোসনে আরা বেগম প্রকাশ শাহাবানু, কামরুন্নেসা, মোছাম্মৎ আক্তার নুর, মৃত মনোয়ারা বেগম, ও মৃত রোকেয়া বেগম। এবং তৃতীয় স্ত্রী ঘরে ২ পুত্র ও ১ কন্যা যথাক্রমে মোঃ শামসুদ্দীন চৌধুরী, মোঃ জহির উদ্দীন চৌধুরী, ও আনোয়ারা বেগম, এরা সবায় মরহুম সৈয়দুর রহমানের বৈধ ওয়ারিশ। তবে হোসনে আরা বেগম প্রকাশ শাহাবানু মৃত্যুবরন করায় ইসলামী প্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান মতে তার কণ্যা শাহানাজ আক্তার, এবং পুত্র গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী ও সাহাব উদ্দীন চৌধুরীগণ দাবীদার হন। মনোয়ারা বেগম মৃত্যু বরন করায় তারপুত্র ইমতাজুল আলম ও কণ্যা মায়শা বিনতে আলম দাবীদার হন। রোকেয়া বেগম মৃত্যুবরন করায় তার মেয়ে সামিয়া আক্তার দাবীদার হন। এবং পুত্র মহির উদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু বরণ করায় তার মেয়ে ফাতেমা চৌধুরী দাবীদার হন। আইন অনুযায়ী এরা সবায় মরহুম সৈয়দুর রহমানের ওয়ারিশ হিসাবে গণ্য। কিন্তু ডাঃ আব্দুল জলিল তার দ্বিতীয় মায়ের সকল সন্তানদেরকে বাদ দিয়ে কেবল মাত্র তিনি নিজে তার তৃতীয় মা ও তৃতীয় মায়ের তিন সন্তানকে ওয়ারিশ করে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করার জন্য বিগত-২১/০২/১৯৯৬ইং সালে গোপনে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক আদালতে মিস মামলা নং-৫৬/৯৬ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসক ০২/০৩/৯৬ইং তারিখে রাঙ্গামাটি সদর থানায় নির্বাহী কর্মকর্তাকে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৪/৩/৯৬ইং তারিখ নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল জলিলের প্রার্থীত আরজি মতে উক্ত ৫জনকে মরহুম সৈয়দুর রহমানের বৈধ ওয়ারিশ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই তারিখে অর্থাৎ ৪/৩/৯৬ইং তারিখে ডাঃ আব্দুল জলিল চৌধুরী, তার ৩য় মা মোছাম্মদৎ মাজেদা খাতুন, এবং ৩য় মায়ের সন্তান মোঃ শামসুদ্দীন চৌধুরী, মোঃ জহির উদ্দীন চৌধুরী ও মোছাম্মৎ আনোয়ারা বেগম এই ৫জনকে মরহুম সৈয়দুর রহমানের ওয়ারিশ হিসাবে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন। ডাঃ আবদুল জলিল চৌধুরীর ২য় মা ও তার সন্তানদেরকে ওয়ারিশ হিসাবে উল্লেখ করা হয় নাই। গোপন ভাবে হাসিলকৃত উক্ত ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে তারা রাঙ্গামাটি জেলার তবলছড়ি মাঝের বস্তি এলাকায় অবস্থিত মরহুম সৈয়দুর রহমান চৌধুরীর ৩০২৪ বর্গফুট জমি তাদের নামে দলিল করে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ডাঃ আব্দুল জলিল চৌধুরীর ২য় মায়ের সন্তান মোঃ জসিম উদ্দীন চৌধুরী বিগত-২৪/০১/১৮ইং তারিখ উক্ত ভূঁয়া ওয়ারিশ সনদ বাতিল করার জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের আদালতে মিচ মামলা নং-৭৯/১৮ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন ফোরকান উদ্দীন আহম্মদ, বাজার চৌধুরী, আপার রাঙ্গামাটি বাজার, রাঙ্গামাটি পাবর্ত্য জেলা, মেয়র রাঙ্গামাটি পৌরসভা, এস.এম. মঞ্জুরুল হক,সহকারী কমিশনার (ভুমি), রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পাবর্ত্য জেলা, মোছাম্মৎ সুমনী আক্তার, উপজেলা নিবার্হী অফিসার, রাঙ্গামাটি সদর, তারা সবাই এই মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সৈয়দুর রহমান মোট ১৬জন ওয়ারিশ রেখে-০১/০১/১৯৮৮ইং মৃত্যুবরণ করেন। সহকারী কমিশনার (ভুমি) তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, মৃত সৈয়দুর রহমানের স্ত্রী ছিল তিন জন। তিন স্ত্রীর মারফত বর্তমানে তার মোট ওয়ারিশ সংখ্যা ১৬ জন। ডাঃ আবদুল জলিল চৌধুরীর দাবী গ্রহনযোগ্য নয়। তার বক্তব্যে হল জসিম উদ্দিন চৌধুরী গং যেহেতু রাঙামাটিতে বসবাস করেন না সেহেতু তারা রাঙ্গামাটির ঠিকানা ব্যবহার করতে পারবে না এবং আইন অনুযায়ী রাঙ্গামাটিতে তারা কোন সম্পত্তির মালিক হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বক্তব্যে হল বিধান অনুযায়ী ওয়ারিশদের ঠিকানা মৃত ব্যক্তির ঠিকানা অনুযায়ী হয়ে থাকে। বর্তমানে ওয়ারিশগণ অন্য জায়গায় বসবাস করতেই পারেন। এতে করে তারা ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত হয় না। তদুপুরী আইনেও এই ধরনের বিধান নেই যে, তারা অন্য জেলায় বসবাস করে বলে, জাতীয় পরিচয় পত্রের ঠিকানা অন্য জেলায় বলে মৃত ব্যক্তির ঠিকানায় ওয়ারিশ হতে পারবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাম্মৎ সুমনী আক্তারও তদন্তের পর্যাবেক্ষণে একই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেন। উক্ত তদন্তের পরিপেক্ষিতে বিগত-০৯/০৭/২০১৮ইং রাঙ্গামাটির পাবত্য জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক এ.কে.এম. মামুনুর রশিদ, বীর মুক্তি যোদ্ধা মরহুম সৈয়দুর রহমানের ১৬জন ওয়ারিশকে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন এবং ডাঃ আবদুল জলিলের  গোপন ভাবে হাসিলকৃত ওয়ারিশ সনদ বাতিল ঘোষনা করেন। এই বিষয়ে ডাঃ আবদুল জলিল চৌধুরীর সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাহিলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমার বাবা বেচেঁ থাকতে যেভাবে যা করে গেছেন। সেইভাবেই তাহা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে ডাঃ আবদুল জলিল চৌধুরী তার নেওয়া ভূঁয়া ওয়ারিশ সনদে অর্ন্তভুক্ত ০৫জন ব্যতীত অন্য কাউকে ওয়ারিশ করেন নাই।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *