যে কারণে স্থগিত হলো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনু্ষ্ঠান শেষে বিএনপির বৈঠক!

নিউজ ডেস্ক: জনসভার পরদিন অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা স্থগিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, বিদেশ থেকে দল পরিচালনায় সমস্যা হওয়ায় এবং একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা তারেক রহমানের সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি মাথায় রেখে নের্তৃত্ব পরিচালনায় পরিবর্তনের বিষয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টার করা হলেও তা তারেক রহমানের গোচরে যাওয়ায় বৈঠক স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠক স্থগিত প্রসঙ্গে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যে আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল, তা বিশেষ কারণবশতঃ স্থগিত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ শেষে দ্বিতীয় দিনে বিএনপি নেতৃত্ব নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার কথা ছিলো বিএনপির তিনজন সিনিয়র নেতার। তারেক রহমানের অযোগ্যতা এবং ভ্রষ্টবুদ্ধি থেকে দলকে বাঁচাতেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে একমত ছিলেন মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো সিনিয়র নেতারা।

পল্টন বিএনপি পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমান দণ্ডিত হবেন সেই বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত বিএনপি। ফলে আবারো দণ্ডিত হলে দল পরিচালনায় নতুন করে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। এই রায় তারেক রহমানের বিপক্ষে গেলে আন্তর্জাতিকভাবে বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হবে। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির অধীনে বিএনপি পথচলাকে কোনভাবেই সমর্থন দেবে না দলটির দেশি ও বিদেশি মিত্ররা। এছাড়া তারেক রহমান রাজনীতিতে অজ্ঞ হওয়ায় বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের বারোটা বেজে গেছে। একের পর এক খাপছাড়া সিদ্ধান্ত ও আদেশে দলটি দেশ ও বিদেশে জনসর্মথন হারিয়েছে। তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা এবং একগুয়েমির কারণে সিনিয়র নেতারা ত্যক্ত-বিরক্ত এবং হতাশ। চিকিৎসার নামে বিদেশে আয়েশি জীবন যাপন করা দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি উন্নয়নের মহাসড়কে চলা বাংলাদেশের যাত্রাকে রুদ্ধ করার মতো দেশ বিরোধী আদেশ দেন, যেটি দেশ ও রাজনীতির নীতি বিরুদ্ধ কাজ।

এছাড়া ভারত-পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইসরাইল, চীনসহ বিএনপির একাধিক মিত্র রাষ্ট্ররা আগামী নির্বাচন এবং বিএনপির ভবিষ্যত নির্ধারণে দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাকে বাদ দিয়ে দল নতুন করে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের কথামতো চললে বিএনপি লাভবান হবে বলেও দেশগুলো বার্তা দিয়েছে। মিত্র রাষ্ট্রগুলো দলের চেয়ারপারসন পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এরইমধ্যে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়া প্রথমে রাজি না হলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তারেক রহমানকে বাদ দিয়ে দল নতুন করে সাজানোর পক্ষে মৌন সম্মতি দেন কারাবন্দি নেত্রী বেগম জিয়া। এ বিষয়ে তারেক অবগত হলে লন্ডন থেকে বৈঠক স্থগিত করার বিষয়ে কড়া বার্তা দিলে বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। তবে বিএনপির বৃহৎ অংশ বৈঠক থেকে বিশেষ বার্তা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলো যা আদৌ পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *