Main Menu

রাণীনগরে ভুমি দস্যুদের কাছে অসহায় প্রশাসন  :অবাধে চলছে পুকুর খনন

 

 

এ বাশার চঞ্চল , নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ফসলী জমিতে পুকুর খননের ধুম পড়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে এক শ্রেণীর পুকুর ব্যবসায়ী স্থানীয় কৃষকদের ধানী জমি চাষের বদলে বড় পুকুরের মালিক বুনিয়ে দেওয়ার লোভনী অফার দিয়ে একাধারে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা ভূমি অফিসে স্থানীয় ভূক্তভোগী কৃষকরা সরাসরি লিখিত অভিযোগ দিয়েও ফসলী জমি বাঁচাতে প্রশাসনের কোন দৃশ্যমান ভূমিকা চোখে না পড়ায় গুনঞ্জন চলছে রাণীনগরের প্রশাসন পুকুর দস্যুদের দাপটের কাছে বড়ই অসহায়ত্বর কারণে পুকুর খননকারিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মৌখিক নিদের্শনা ছাড়া আইনের শক্ত প্রয়োগ করছে না। ফলে দিনদিন ঐসংঘবদ্ধ পুকুর খননকারি চক্র ও মদদদাতারা আরও বেপোরয়া হয়ে পাশ্ববর্তী জমির মালিকদের অনেকটা বাধ্য করে স্বল্প মূল্যে পুকুর খনন কাজের জন্য জমি লীজ নিচ্ছে। যে জমিগুলোতে বোরো মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান উৎপাদন হতো সেই ফসলী জমিগুলোতে এখন চলছে পুকুর দস্যুদের তান্ডব লীলা। এর ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে শুধু মিরাট ইউনিয়নেই ফসলী জমি অকালেই হারিয়ে যাবে। অবাধে নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্ক না করে কৃষি জমিতে পুকুর খননের অভিযোগে বেশকিছু দিন আগে দৈনিক সংবাদে খবর প্রকাশ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে পুকুর খননকারিদের নিষেধ করা শর্তেও প্রশাসনের নিদের্শনা না মেনে বীরদর্পে এস্ক্রেবেটার মেশিন দিয়ে পুকুর খননের মহাৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। ফসলী জমি ১০ বছর মেয়াদী লীজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির মালিককে বোকা বানিয়ে ফসলী জমিতে পুকুর তৈরির লক্ষ্যে এস্ক্রেবেটার মেশিন দিয়ে আট ফিট গভীর করে জমির চার দিকে বাঁধ দিয়ে পুকুর খননের কাজ করছে।

রাত-দিন ২৪ ঘন্টা এমনকি রাতের বেলাই বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন থেকে অবৈধ ভাবে সংযোগ নিয়ে আলো জ্বালিয়ে বিরতিহীন ভাবে পুকুর খনন করছে। সেই মাটি আবার ব্যানিজ্যিক ভাবে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় ২৫ টি ইট ভাটাতে সরবারহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে একদিকে হারাচ্ছে তাদের পৈতিক ফসলী জমি অন্যদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এক শ্রেণীর তথাকথিত পুকুর ব্যবসায়ীরা। এবিষয়ে স্থানীয়রা প্রতিকার চেয়ে গত ০৭/১২/২০১৬ইং তারিখে সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ যার রিসিভ নং-১৫৮৭ করেও লাভ হচ্ছে না। ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারের ১নং খতিয়ানভূক্ত জমিও এই পুকুর দস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা প্রাকৃতিক ভাবেই নদী-নালা খাল-বিল বেষ্টিত সমতল উর্ব্ব জমি। কৃষি ফসলের মধ্যে ধান উৎপাদন এলাকা হিসেবে খ্যাত হলেও ইদানিং কৃষিজাত নানা সবজি উৎপাদনেও কমতি নেয়। উপজেলায় প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর ফসলী জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোন না কোন ধরণের ফসল হয়। কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত কৃষিজাত পূর্ণের বিশেষ করে কাটা-মাড়াই মৌসুমে ধানের উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় স্থাণীয় এক শ্রেণীর কৃষকরা পুকুর ব্যবসায়ী ও ইট ভাটা মালিকদের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পড়ে প্রতি বিঘা জমি বছরে ১২ হাজার টাকা দরে ১০ বছরের জন্য লীজ প্রক্রিয়া চুক্তিনামা করে চাষযোগ্য ফসলী জমিতে বড় পুকুর করছে আর সেই মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) ছয়শত থেকে সাতশত টাকায় ইট ভাটায় বিক্রয় করছে পুকুর ব্যবসায়ীরা। জমি গুলো দেখে মনে হচ্ছে এযেন উম্মুক্ত জলাশয়। ভূমি আইনের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে আবাদী কৃষি জমিতে অবাদে পুকুর খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি অন্য দিকে পাশের জমির মালিকরা পুকুর পাড়ের প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিক ভাবে পানি চলাচল বন্ধ হওয়ায় বোরো ধান রোপণে অনেক কৃষকরা বাধগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই পুকুরের পাশ্ববর্তী জমির মালিকরা চলে যাচ্ছে পুকুর দস্যুদের কাছে আবার কেউ জমি চাষ না করে ফেলে রাখছে। এতে করে শুধু চলতি মৌসুমেই প্রায় পাঁচশত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ কম হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা অবদি প্রায় নয়টি এস্ক্রেবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ইট ভাটায় পৌছে দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পুকুর খননের প্রবনতা লক্ষ্য করা গেলেও বিশেষ করে মিরাট ইউপি’র আয়াপুর ও আতাইকুলা মৌজার এক নাম্বার ও দুই নাম্বার স্লুইচ গেট, বড়ধর নামক স্থানে পুকুর খননের প্রবনতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব মিরাট ইউপি’র কয়েকজন কৃষকদের কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে ঝটিকা অভিযান দিলে পুকুর খননের সাথে জরিতরা কেউ পালিয়ে যায় আবার কেউ পুকুর খনন করবে না বলে জানালেও নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসা মাত্রই পুরোদমে পুকুর দস্যুরা বীরদর্পে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এযেন দেখার কেউ নেই।

এব্যাপারে অভিযোগকারি উপজেলার আতাইকুলা গ্রামের মকলেছুর রহমান, ধনপাড়া গ্রামের মনিরুল হাসান রানা জানান, আমরা স্ব-শরীরিরে উপস্থিত হয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করে প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও পুকুর খননকারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করাই পুকুর খননকারিরা তাদের কর্মকান্ড দ্রুতবেগে চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি জরুরি ভিত্তিতে কৃষক ও ফসলী জমি রক্ষার স্বার্থে জরতিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) লিলুফা ইয়াসমিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর খনন কাজে জরিত ৫/৭জনকে মৌখিক ভাবে নিষেধ করার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই তদন্ত কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *