পুনরুজ্জীবিত কোটা আন্দোলনের নেপথ্যে | বাংলারদর্পন

নিউজ ডেস্ক :

গত এপ্রিল মাসে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকুরীতে বিদ্যমান কোটা সংস্কার চেয়ে আন্দোলনে নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়াতে নাশকতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার মধ্য দিয়ে কোটা আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেয়ার চক্রান্ত করছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের তথাকথিত নেতারা। কথিত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের শীর্ষ কয়েক নেতার হাত ধরে আন্দোলনের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে জামায়াত-শিবির ও তাদের মদদপুষ্টদের হাতে। শিবিরের বাঁশের কেল্লাসহ প্রতিটি উগ্রবাদী ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া হচ্ছে উস্কানি। তথ্য মিলছে আন্দোলনে বিশেষ গোষ্ঠীর ফন্ডিংয়েরও। এক ভিডিও বার্তায় খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও নাশকতায় উস্কানি দেয়ার পর এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম নায়ক রাশেদ খানকে প্রযুক্তি আইনে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাশেদ ২৭ জুন সন্ধ্যা ৮টায় ফেসবুক লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন ‘মনে হচ্ছে তার বাপের দেশ, সে একাই দেশের মালিক। তিনি যা ইচ্ছা তাই বলবেন আর আমরা কোন কথা বলতে পারব না’। এছাড়াও রাশেদ বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে গুজব ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে শিবিরের ফেসবুক পেজ বাঁশের কেল্লার মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দেন রাশেদ। সকালে ফেসবুক লাইভে এসে গোয়েন্দা পুলিশ তার পিছু নিয়েছে বলে জানায়। বাঁশের কেল্লায় সঙ্গে সঙ্গে প্রচার করা হয় রাশেদের ভিডিও বার্তা। একই সঙ্গে ভিডিও চলে যায় শিবিরের অনলাইন পোর্টাল এনালাইসিস বিডি, সংবাদ২৪/৭, আন্দোলন নিউজ লাইভসহ শিবির পরিচালিত বিভিন্ন মাধ্যমে।

এদিকে অচিরেই শিবির রুপী এসব তথাকথিত কোটা আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, এ আন্দোলনের শীর্ষ ব্যক্তিদের চেহারা আর গোপন নেই। আল কায়েদার মতো রাশেদ যেভাবে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে আর কিছু প্রমাণের দরকার নেই। এবার সরকারের শক্ত অবস্থানের কোন বিকল্প নেই। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কমিটি কাজ করছে সেখানে নতুন করে অস্থিরতা মানা যায় না। রাশেদ শিবির প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সূর্যসেন হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুরু থেকে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও সে অনুসারে কাজ শুরুর পর ক্লাশে ফিরেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা তানভীর সৈকত। তিনি জানান , এখন যারা কোটার আন্দোলন করছেন তাদের উদ্দেশ্য সরকার বিরোধী বড় ধরনের নাশকতা। আমরা আহত হয়েছি আন্দোলনে। কিন্তু ওরা এখন আসলে সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে। এখন আর কোটা সংস্কারের আন্দোলন নেই।

জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের তথাকথিত নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে পেছন থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছিলেন রাশেদ খান ও তার সহযোগীরা। এর আগে কোটা আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেয়ায়, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলা করে আন্দোলনকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ দেয়ার অপচেষ্টা চালানোর মতো পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয় রাশেদদের হাত ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *