Main Menu

ভারতীয় হাই কমিশনারকে চাটুকারিতায় তোপের মুখে মির্জা ফখরুল | বাংলারদর্পন 

নিউজ ডেস্ক: কূটনীতিকদের সম্মানে ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে এক ইফতার পার্টির আয়োজন করে বিএনপি। মূলত নিজেদের দুর্দশা এবং অচলাবস্থার চিত্র তুলে ধরে কঠিন সময়ে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় বিদেশি বন্ধুদের সমবেদনা ও করুণা পাওয়ার আশায় এই ইফতারের আয়োজন করে বিএনপি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির নেতা এবং সাবেক সচিব সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ইফতারে দাওয়াত করা হয় ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শিংলা, চীনের রাষ্ট্রদূত জাংদু, সৌদি দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার আমির বিন ওমর বিন সালেমসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। তবে উপস্থিত সকল কূটনীতিককে বাদ দিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারকে বেশি সময় দেওয়া, অনবরত তার আগে পিছে চলাফেরা এবং অত্যাধিক চাটুকারিতার কারণে অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির নেতাদের ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়েন মির্জা ফখরুল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির এক নেতা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ইফতার পার্টিতে ভারতীয় হাই কমিশনারকে নিয়ে মির্জা ফখরুলের বাড়াবাড়িতে আমরা খুবই বিব্রত হয়েছি। হর্ষবর্ধন শিংলা হোটেল গেটে আসা মাত্রই ফখরুল সাহেবের চাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তার গতি বেড়ে যায় দ্বিগুণ। ভাবটা এমন ছিল যে খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের চেয়ে বড় কেউ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। মির্জা ফখরুল পড়িমড়ি করে শিংলাকে স্বাগত জানান। শিংলাই যেন বিএনপির ত্রাতা। সেখানে উপস্থিত অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে মির্জা ফখরুল শিংলার গা ঘেষেই বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর পর কানাকানি করছিলেন। অতি উৎসাহী হয়ে মির্জা ফখরুল অনেক অনিয়ম করেছেন। তার এমন অপরিপক্ক এবং একপেষে আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন উপস্থিত অন্যান্য দেশের কূটনীতিকসহ বিএনপির নেতারা।

বিএনপির অন্য একজন নেতা বলেন, মির্জা ফখরুল ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে যেভাবে আচরণ করলেন তাতে মানুষ মনে করবে বিএনপি ভারতের সাহায্য ও করুণা লাভের জন্য পাগল হয়ে গেছে।

তবে এসব সিরিয়াস কথার মধ্যে হাসির খোরাক যোগান আবদুল আওয়াল মিন্টু। মিন্টু বলেন, ভাগ্যিস রিজভী আজকের ইফতারে আসে নাই, যদি তিনি এসে ফখরুল ভাই আর শিংলার প্রেম দেখতো, তাহলে নিশ্চয়ই আত্মহত্যা করতো।

মির্জা ফখরুলের এমন হাস্যকর ও বুদ্ধিহীন আচরণে আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপির নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা পরনির্ভরশীল একটি দলে পরিণত হয়েছে। তাদের আন্দোলন, সংগ্রাম করার শক্তি নেই। তাই বিদেশি রাষ্ট্রের পা ধরে, তাদের গোলামি করে ক্ষমতায় আসতে চায়। মির্জা ফখরুলের এমন বুদ্ধি-বিবেকহীন চাটুকারিতায় আমরা সকল রাজনীতিবীদরা লজ্জা পেয়েছি। মির্জা ফখরুলের নুন্যতম শরম থাকলে তিনি বিদেশিদের সামনে এমন বেহায়ার মত কাজ করতেন না। মির্জা ফখরুলকে সজ্জন ব্যক্তি ভাবতাম। তিনি আসলে লজ্জাহীন, মেরুদণ্ডহীন প্রাণী।

বিএনপির ইফতার পার্টিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত না আসায় কিছুটা হতাশ বিএনপি নেতারা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *