নিজস্ব প্রতিবেদক :
এবার রিজভীর উপর খেপেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। বাজেট ঘোষণার দুইদিন আগে আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে মন্তব্য করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির এই সাবেক মন্ত্রী। ড. মঈন খান তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বলেছেন, ‘রিজভী কি সবজান্তা না জোকার? আমি এক মাস ধরে বাজেট নিয়ে কাজ করছি। বাজেট সমালোচনা করে বক্তব্য রাখবো। আর সে কিনা পুরো বিষয়টাকে হালকা করে ফেললো।’ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তাঁকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি।’
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়ামন্ত্রী সভার চল নেই। কিন্তু বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে একটা ছায়া অর্থমন্ত্রীর আমেজ আসে। এই ব্যবস্থার প্রচলন হয় ১৯৯১ সাল থেকে। বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের বাজেটের আনুষ্ঠানিক সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব প্রাপ্ত একজন। ১৯৯৩ সাল থেকে প্রয়াত শাহ এ. এম. এস. কিবরিয়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির প্রদত্ত বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিএনপির জায়গা হয় বিরোধী দলে। এবার ঠিক উল্টোচিত্র। অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার বাজেটের সমালোচনা করেন সাইফুর রহমান। এভাবে বিরোধী দলের বাজেট প্রতিক্রিয়া একটি রেওয়াজ এ পরিণত হয়েছে। ২০০৮ এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও এই ধারা অব্যাহত আছে। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এম কে আনোয়ার। তিনি অসুস্থ হবার পর গত বছর থেকে ছায়ামন্ত্রী হিসেবে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ড. আবদুল মঈন খান। গত কিছুদিন ধরেই তাঁর একটি টিম নিয়ে এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাজেটের বিভিন্ন ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো তুলে ধরার জন্য তিনি কাজ করছেন। যেন বাজেট সমালোচনা মানুষ গ্রহণ করে। এর মধ্যে হঠাৎ বাজেট নিয়ে রিজভীর বক্তব্য তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। ড. আবদুল মঈন খান মনে করেন, ‘যাঁর যেটা দায়িত্ব সেটাই বলা উচিত। দায়িত্বের বাইরে হালকা কথাবার্তা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। মানুষ এখন পরের গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা গুলো মনোযোগ সহকারে শোনে না।
অবশ্য এসব নিয়ে রিজভীর কোনো বিকার নেই। বরাবরের মতো, এবারও রিজভী দলের নেতাদের বলেছেন, ‘আমারটা আমি বলেছি, আপনাদেরটা আপনারা বলেন। সমস্যা কোথায়?