“স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ” থেকে “উন্নয়নশীল বাংলাদেশ” রূপান্তরের গল্প | বাংলারদর্পন 

নিউজ ডেস্ক :

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ৩০ লক্ষ প্রাণ বিসর্জনের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর সকল ক্ষেত্রে শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই ‘সোনার বাংলা’ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে।

শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লিখিয়েছে। আমাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি গৌরবোজ্জ্বল এবং ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ার পর এই প্রথম অর্থনৈতিক উন্নতির বড় ধরণের স্বীকৃতি পেল।

যেকোনো দেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবার প্রধান তিনটি শর্ত হচ্ছে মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সূচকে নির্ধারিত মান অর্জন। বলা বাহুল্য বাংলাদেশ এই তিনটি শর্ত পূরণ করেই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে।

২০২১ সাল পর্যন্ত এই সূচক ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক ভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল ECOSOC (United Nations Economic and Social Council) সুপারিশ করবে। পরবর্তীতে চূড়ান্ত সুপারিশ ও জাতিসংঘের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৪ সালের মধ্যে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে বাংলাদশ। ২০২৪ সালে উত্তরণ ঘটলেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। ফলশ্রুতিতে আগামী ৯ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উত্তরণ: সম্প্রতি WORLD ECONOMIC FORUM (WEF) ৭৪টি উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে ৪৬তম থেকে ৮ ধাপ এগিয়ে ৩৮ তম অবস্থানে রেখেছে। একই ফোরামে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকেও বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে আগের বছরের চেয়ে ৭ ধাপ এগিয়ে ৯৯তম অবস্থানে এসেছে । লিঙ্গ সমতার দিক থেকে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম এবং টানা তিন বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

মানব উন্নয়ন: মাথাপিছু আয়, গড় আয়ুসহ বিভিন্ন মাপকাঠিতে উন্নতির পথ ধরে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম। আগের বছর যা ছিল ১৪২। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রবৃদ্ধি: একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হচ্ছে প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৫.৫২%। সেখান থেকে জিডিপি বেড়ে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৭.৬৫% । ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের জিডিপি ১.২% বাড়বে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপি ৮% অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

মাথাপিছু আয়: বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫২ ডলার, যা পূর্বে ছিল ১৬১০ ডলার।

সরকারের গৃহীত নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচী, অর্থনৈতিক কার্যকরী পদক্ষেপ বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে আমাদের দেশে যে গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *