বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব নিয়ে আসামে বিক্ষোভ | বাংলারদর্পন

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক :

একাত্তরে দেশ থেকে পালিয়ে আসামে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে আসামের জনগণ। আসামে বসবাস করা বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব না দিতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছে আসামের বেশ কয়েকটি সংগঠন।

২০১৬ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার আসামে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে একটি বিল পাশ করে। কিন্তু আসামের বিভিন্ন সংগঠন বিলটির বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ করছে। এমন অবস্থায় মোদী সরকারের প্রস্তাবিত বিলটি বাস্তবায়ন করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আসামের কয়েকটি সংগঠন বলছে, বিজেপি সরকার যা-ই বলুক, বিদেশিরা বিদেশিই – তাদের হিন্দু-মুসলিম এই বিভাজনে আলাদা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। শুধু মুসলিমরা নন – বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া চলবে না

আসামে মুসলিমদের দল বলে পরিচিত ‘এআইডিইউএফ’ বলেছে, ‘১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তিতে যে তারিখটা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছিল আজ সেটা হিন্দুদের আশ্রয় দেওয়ার নামে লঙ্ঘন করা হলে খুব অন্যায় হবে। আজ যদি একাত্তরের পরে আসা হিন্দুদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হয়, প্রতিবাদ তো হবেই। বিদেশিরা সব সময়ই বিদেশি – হিন্দু হোক বা মুসলিম, তাদের কাউকেই নাগরিকত্ব দেওয়া যায় না।’

কেন আসাম বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ত্ব দিতে চাচ্ছে না?

আসাম গণ পরিষদের বিধায়ক উৎপল দত্ত বলেছেন, বাংলাভাষী হিন্দুদের জন্য এভাবে দরজা খুলে দিলে একদিন ত্রিপুরার মতো আসামেও বাংলাদেশিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যেতে পারে।

তাঁর যুক্তি, “বাংলাদেশীরা ভারতে ঢুকলে আসামে এসেই থিতু হন। আর এটাই আমাদের জন্য প্রচণ্ড ভয়ের। এভাবে চললে আর তাদের নাগরিকত্ব দিলে একদিন আমরা নিজ ভূমিতেই সংখ্যালঘু হয়ে যাব।’

এদিকে আসামে বিজেপি’র শরিক দল বোড়ো পিপলস ফ্রন্টের নেত্রী প্রমীলা রানি ব্রহ্ম বলেছেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির অবস্থানকেই আমরা সমর্থন করছি। আমরা যেহেতু সরকারে আছি, তাই এখানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যই আমাদের বক্তব্য। আমাদের দল এ ব্যাপারে আলাদা কোনও বিবৃতি দিচ্ছে না।’

আসামের জনগণের মতামত জানতে মোদী সরকার একটি সংসদীয় কমিটি পাঠিয়েছিলেন। ওই কমিটির অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা আসামের জনগণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। কেউ কেউ বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে।’

‘কেউ বলছে নাগরিকত্ব নতুন করে দেওয়া যাবে না, দিলেও আসামে কেন? কেউ আবার বলছে নাগরিকত্বকে হিন্দু-মুসলিমের নামে ভাগ করা হচ্ছে কেন? একটা অংশ আবার বলছে, যত বাঙালি আছে সবাইকে নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। আবার অন্য একটা অংশের মতে, শুধু হিন্দু বাঙালিদের দিলেই চলবে।’ অর্থাৎ এ নিয়ে আসামে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম।

বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দেওয়া না দেওয়া নিয়ে আসামে ধর্মীয় সহিংসতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *