ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মধ্যম সুলতানপুর গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধা ও পুলিশ পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে একটি চিহ্নিত ভূমি দস্যূ চক্র। হয়রানী থেকে বাচতে ওই পরিবার প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অমানুষিক হয়রানী করছে ওই পরিবারকে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মধ্যম সুলতানপুর গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডের শেখ আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমদের পরিবার বসবাস করছে। সুলতান আহমদ মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সিনেমা প্রযোজনায় কাজ করতেন। তার এক পুত্র সন্তান বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত আছেন। সুলতান আহমদ মারা যাওয়ার এক বছরের মাথায় ওই এলাকার চিহ্নিত ভূমিদূস্যূ সামছুল হক, একরামুল হক কিশোর, মোশারফ হোসেন রাসেলের সহযোগীতায় জাবেদ হোসেন গংরা মুক্তিযোদ্ধার বসত ভিটা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। সোনাগাজীর সুলতানপুর মৌজার বিএস খতিয়ান ৯৫৪ দাগ নং ৪২৯, ৪৪২ দাগের চৌহদ্দি মাপ উত্তর ও দক্ষিণে ৮২ ফুট পূর্বে পশ্চিমে ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি মোট ৮ ডিসিম্যাল জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় একই এলাকার নুর আহাম্মদের পুত্র জাবেদ হোসেন গং। এই জায়গা নিয়ে ১৯৯৭ সালে জর্জ কোর্ট ও হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হলে আদালত মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে রায় প্রদান করেন। কিছুদিন যেতে না যেতে ওই ভূমিদস্যূ চক্ররা থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করে আসছে। এনিয়ে কয়েকবার থানায় ও এলাকায় সালিশী বৈঠকে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষে রায় প্রদান করেন সোনাগাজী মডেল থানার এসআই দিপঙ্কর ও এসআই খলিল। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজুর রহমানের আদালতে কাগজপত্র যাচাই বাচাই করে মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে রায় প্রদান করেন। কোন কিছুতেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না প্রভাবশালী ভূমিদসূ্যূরা। তারা গায়ের জোরে এলাকায় তাদের সহযোগীদের নিয়ে ওই জায়গা দখল করতে গেলে বাঁধা দেয় মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমদের ছেলে আসাদুজ্জামান। এসময় লাঠিসোটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালালে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। এছাডাও গত ২ মে চক্রটি দলবল নিয়ে ওই জায়গায় টয়লেট নির্মাণের চেষ্টা চালালে বিষয়টি সোনাগাজী মডেল থানাকে অবহিত করা হলে এস.আই জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে ভূমিদস্যূদের ভয়ে ওই পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। হয়রানী ও জীবন বাঁচতে ওই পরিবার প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমদের স্ত্রী জোসনা আরা বেগম জানান, বিনা কারণে জাবেদ হোসেন গংরা আমাদের বসত ভিটার জায়গায় জোর পূর্বক দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে। তাদের হয়রানী ও হুমকি-ধমকিতে আমি ছেলে সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বাসু জানান, জায়গাটি নিয়ে সোনাগাজী থানায় সালিশী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিনাকারণে হয়রানী করায় তিনি প্রশাসনের নিকট ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।
সোনাগাজী মডেল থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উভয় পক্ষকে কাগজপত্র মতে বিষয়টি মিমাংসা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।