নিউজ ডেস্ক :
গাজীপুরের সিটি করপোরেশনের নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা অন্তর্ভূক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আজ রবিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করে রুল জারি করেছেন আদালত।
নির্বাচন কমিশন–ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১৫ মে নির্বাচন হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে এই নির্বাচনের প্রচার জমেও উঠেছিল। এর মধ্যে আজ এই নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিলেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সাভার উপজেলার ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৩ সালে ১৬ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করেছিল ইসি। সেই গেজেট চ্যালেঞ্জ করে রোববার এক নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ একটি রিট আবেদন করেন। তার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়েই হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোট ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে দেন।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সঙ্গে ছিলেন একেএম এনায়েত উল্লা চৌধুরী ও শহীদুল ইসলাম। বিএনপির রাজনীতি করা এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজকে ব্যবহার করে মূলত বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান সরকার নির্বাচন স্থগিতের নীলনকশা করেন, যাতে প্রত্যক্ষ হাত ছিল বিএনপির হাই কমান্ডের।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ সিটি করপোরেশনের সীমানা নিয়ে গেজেট জারি হয়। যেখানে শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, দক্ষিণ পানিশাইল ও ডোমনাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যে নির্বাচন আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যে নির্বাচন উৎসব সঞ্চার করেছিল গাজীপুরবাসীর মাঝে সেখানে বিএনপির নির্বাচন বানচালের এই প্রয়াস রাজনীতিতে বিএনপির দেউলিয়াত্বের আরেকটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।