নিউজ ডেস্ক :
নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়ার মত। নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে যে কয়জন রাষ্ট্র নেতা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা অন্যতম। তাই বর্তমান বিশ্বে নারী জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুপরিচিত।
নারী নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২৭ এপ্রিল সিডনিতে ‘গ্লোবাল সামিট অন উইমেন’-এ জমকালো এক অনুষ্ঠানে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেয়া হয় শেখ হাসিনার হাতে। এর আগে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়নে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানে। পুরস্কার গ্রহণ পরবর্তী বক্তৃতায়, শেখ হাসিনা তার এ পুরস্কারকে বিশ্বের নারী জাগরণে কাজ করা সকল নারীকে উৎসর্গ করেন।
অনুষ্ঠানে নারীদেরকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে ও অধিকার বাস্তবায়ন করতে চারটি দফা তুলে ধরেন তিনি। দফাগুলো হচ্ছে , নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত যে ধারণা সমাজে রয়েছে, তা ভাঙতে হবে; প্রান্তিক অবস্থানে ঝুঁকির মুখে থাকা সেসব নারীদের কাছে পৌঁছাতে হবে, যারা আজও কম খাবার পাচ্ছে, যাদের স্কুলে যাওয়া হচ্ছে না, যারা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কোনো নারী, কোনো মেয়ে যেন বাদ না পড়ে; নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে তাদের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে এবং জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
দেশের সর্বক্ষেত্রে নারীর অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সাফল্য দেখতে পাওয়া যায় কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়ে যাবার খতিয়ান দেখলেই. নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে ৭.৬ শতাংশ নারী, কৃষি খাতে ৯০ লাখ, বিভিন্ন শিল্প খাতে ৪০ লাখ, সেবা খাতে ৩৭ লাখ, ব্যাংক বিমার মত আর্থিক খাতে ৭০ হাজার নারী কাজ করছে। একটি গবেষণা বলছে গ্রামীন অর্থনীতিতে আজ নারীর অবদান ৫৩ শতাংশ, যার বিপরীতে পুরুষের অবদান ৪৭ শতাংশ।
তাই গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড স্বীকৃতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শুধু শেখ হাসিনাকে নয়, দেশকে পরিচয় দেয় নারীর ক্ষমতায়নের এক উর্বর ভূমি হিসেবে।