Main Menu

পীরবক্স কবিরাজ ওয়াক্ফ এস্টেটের জমি মোতওয়াল্লী অর্থের বিনিময়ে পজিশন হস্তান্তর কার্যক্রম অব্যাহত

মোঃ আফজাল হোসেন দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরে ১০০৯৮ নং পীরবক্স কবিরাজ ওয়াক্ফ এস্টেট দলিলের শর্ত ভঙ্গ করে মোতওয়াল্লী আব্দুল লতিফ মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিভিন্ন লোকজনকে হস্তান্তর করে চলেছে। পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেটের বিষয়ে হাই কোর্টে ৮২৭০/১৬ রীট পিটিশন মামলা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিনাজপুর সদর থানার ৮ ও ১০ নং ইউনিয়নের ভিতরে রয়েছে পীরবক্স কবিরাজ ওয়াক্ফ এস্টেট, যার ইসি নং-১০০৯৮, জমির পরিমাণ ১১৯ বিঘা ১৯ কাঠা। এস্টেটের ভিতরে রয়েছে আবাদি জমি, বাঁশঝাড়, পুকুর, মসজিদ ও মক্তব। পীরবক্স কবিরাজ ১ ছেলে তফির উদ্দীন ও ১ মেয়ে তছিমন-কে রেখে মারা যায়। পীরবক্স কবিরাজ মারা যাওয়ার পর তফির উদ্দীন সুটিমনকে বিয়ে করে সংসার করাকালীন মারা যায়। তার কিছুদিন পর সুটিমন মারা যায়। তাদের কোন সন্তান নেই। পীরবক্স কবিরাজের কন্যা তছিমনের বিয়ে হয় খয়েরতুল্যা মোল্লার সাথে। ৩ ছেলে শরিয়তুল্লাহ, ওসমান গণি ও উজির এবং ২ মেয়ে রেখে তছিমন ও তার স্বামী মারা যায়। ছেলে জামালউদ্দীন সহ ৩ মেয়েকে রেখে শরিয়তুল্লাহ মারা যায়। ৪ ছেলে নছির, লতিফ, খতিব, রেজাউল ও ২ মেয়েকে রেখে ওসমান গণি মারা যায়। ৩ ছেলে নজরুল, আবু, জিয়াউরসহ ৪ মেয়েকে রেখে উজির মারা যায়।

 
পীরবক্স কবিরাজ বংশধর হিসাবে ওসমান গণি মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব নিয়ে এস্টেট পরিচালনা করতে থাকে। ওসমান গণি মোতওয়াল্লী হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে ওয়াকফ এস্টেটের বেশ কিছু জমি খাজনা পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকার কারণে ৮নং শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ২৭টি মামলার উদ্ভব হয়। ঐ সময় দিনাজপুর জেলা ওয়াক্ফ পরিদর্শক মাহাবুবুর রহমানের নিকট পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেটের হরিলুটের বিষয়ে অভিযোগ আসে। ফলে পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেট রক্ষার স্বার্থে ওয়াকফ অফিস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোতওয়াল্লীর পদ থেকে ওসমান গণিকে অপসারণ করে। তদস্থলে জেলা ওয়াকফ পরিদর্শক মাহাবুবুর রহমান অফিসিয়াল মোতওয়াল্লী হিসেবে পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা করতে থাকেন। তিনি ওয়াকফ এস্টেটের ফসলের আয় থেকে বকেয়া খাজনাদী পরিশোধ করেন। এরপর পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেট ওসমান গণির হাতে বুঝিয়ে দেন। কিছুদিন পর ওয়াকফ প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের নানা অভিযোগ করে আব্দুল লতিফ তার পিতা ওসমান গণিকে মোতওয়াল্লীর পদ থেকে অপসারণ করে নিজে দায়িত্বভার গ্রহণ করে। আব্দুল লতিফ তার বড় ভাই নছিরকে নিয়ে পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা করতে থাকে। এলাকাবাসীরা জানায় পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী হিসেবে ওসমান গণি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলিলের শর্ত ৩ ভাগের ১ ভাগ এস্টেটের মসজিদ ও মক্তব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সহ গরীব মিসকিনদের সাহায্য সহযোগিতা করবে। বাকি ২ ভাগের ১ ভাগ মোতওয়াল্লী তার পরিবার ভোগ করবে। আরেক ১ ভাগ এস্টেটের খাজনা, ওয়াকফ চাঁদা সহ জমির ফসলাদী বিষয়ে ব্যয় করবে। আয়ের অবশিষ্ট টাকা উন্নয়নের জন্য ওয়াকফ্ এস্টেটের নামে ব্যাংক একাউন্টে জমা থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ওয়াকফ এস্টেটের ভিতরে মসজিদটির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা তো দূরের কথা মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই। মসজিদের পাশে মক্তবটি হারিয়ে গেছে। আব্দুল লতিফ মোতওয়াল্লী হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে সেও নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে বিভিন্ন লোকজনদের বাসাবাড়ী করার জন্য মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। ফলে ওয়াকফ এস্টেটের বিভিন্ন মৌজায় এখন প্রায় অর্ধ শতাধিক বাসাবাড়ী সৃষ্টি হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানায়। সূত্র মতে দলিলের শর্ত মোতাবেক পীরবক্সের বংশধর হিসেবে জ্যৈষ্ঠতা ভিত্তিতে মোতওয়াল্লী হওয়ার কথা মৃত শরীয়তুল্লার পুত্র জামাল উদ্দীন। উজিরের পুত্র নজরুল। এছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী মৃত: ওসমান গণির তৃতীয় পুত্র খতিবকে মোতওয়াল্লী হিসেবে উপযুক্ত মনে করছেন এলাকার সচেতন মানুষ।
আব্দুল লতিফ মোতওয়াল্লী হওয়ার পর ওয়াকফ্ এস্টেটের ভিতরে যে সকল লোকজন বাসাবাড়ী করে বসবাস করছে। তন্মধ্যে সদর থানার বড়গ্রাম মৌজায় সিরাজুলকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০ শতক, আস্কারকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০ শতক, জামালকে ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ১১ শতক, নজরুলকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ০৬ শতক, শাহীনকে ভাই ভাই ক্লাব করার জন্য ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ০৬ শতক, ফাইদুলকে ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ০৬ শতক, হাকিমকে ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০ শতক জমির পজিশন হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে যুক্তিপাড়া মৌজায় রিয়াজুল শাহজাহান, মোবারক হামিদ মেকারের জামাইদ্বয়দের নিকট মোটা অংকের বিনিময়ে পজিশন হস্তান্তর করেছে। এরা বাসাবাড়ী করার জন্য কেউ মাটি ভরাট, আবার কেউ মাটি ভরাট করে কাচা বাড়ী তৈরি করছে। শালকী মৌজায় মোকসেদুল মেকার, মাটি ভরাট করে কাঁচাবাড়ী তৈরি করেছে। মেহেরাব আলী, মোজাম্মেল হক, ও মানিকদ্বয়দের কাছে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে পজিশন হস্তান্তর করেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামী মানিক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০ শতক জমি নিয়ে কাচা বাড়ী করে এখন পাকা বাড়ী করার জন্য ইট বালু ফেলেছে। মোজাম্মেল ইট বালু ফেলেছে পাকা বাড়ী করার জন্য, মেহেরাব কাচা বাড়ী করে বসবাস করছে। ওদিকে গত ১০ জানুয়ারি ২০০৫ তারিখে মশিতুল্যা চৌধুরী দক্ষিণ দূর্গাপুর মৌজায় পীরবক্স ওয়াকফ এস্টেটের ১ একর ১৫ শতক জমি সেটেলমেন্ট অফিসে ডি. পি খতিয়ান নং-৯৯ তসদিককৃত রাজস্ব অফিসার স্বাক্ষরিত কাগজ দেখাচ্ছে। ২৫ আগষ্ট ২০০৪ তারিখে সুটি বেওয়া নামে ১ একর ৬৫ শতক ডি. পি নং-১৭৯ তসদিককৃত রাজস্ব অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত কাগজ দেখাচ্ছে। কিন্তু সুটি বেওয়ার কোন সন্তান নেই। আরও জানা যায়, ওয়াকফ এস্টেটের পীরবক্স কবিরাজের বংশধরদের মধ্যে আব্দুল লতিফ ও নছির সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। বাকি জামাল উদ্দীন, খতিব, রেজাউল, নজরুল, আবু, জিয়াউরসহ তাদের বংশধররা এস্টেট থেকে কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। মোতওয়াল্লী আব্দুল লতিফ যখন বেকায়দায় পরছে তখনই ওয়ারিশদের মাঝে ২/১ কাঠা করে জমি আবাদ করতে দিয়ে বিপদ কেটে গেলে ঐ জমিগুলো ফেরত নিয়ে নিচ্ছে। অত্র এস্টেটের ইউনিয়ন পরিষদে এসব বিষয়ে ওয়ারিশরা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও সুফল হচ্ছে না। পীরবক্স কবিরাজ ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি বিষয়ে দিনাজপুর জেলা ওয়াকফ পরিদর্শকের কোন মাথাব্যথা না থাকার কারণে মোতওয়াল্লী আব্দুল লতিফ এস্টেটের জমি পজিশন বিক্রয় করে লুটেপুটে খাচ্ছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *