স্টাফ রিপোর্টার : গত ২১ এপ্রিল ২০১৮ ইং শনিবার বিকাল অনুমান ৫ ঘটিকায় সন্ত্রাসী শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে অপরাধ বিচিত্রার যুগ্ম সম্পাদক কাজী ফারুককে গুলি ও শ্বাস রোধ করে হত্যা চেষ্টা, অফিস ভাংচুর ও লুটের খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে কাজী ফারুক বাদী হয়ে ডিএমপি’র মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে কাজী ফারুক উল্লেখ্য করেন, তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রার যুগ্ম সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অনলাইন গণমাধ্যম এসোসিয়েশনের, বাংলাদেশ কমিউনিটি ক্লিনিক জমিদাতা সমিতির চেয়ারম্যান, ফেনী সমিতি ঢাকা এবং ছাগলনাইয়া সমিতি ঢাকার আজীবন সদস্য ও সাবেক কর্মকর্তা। শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে ১৮/১৯ জনের একটি সন্ত্রাসী দল গত ২১ এপ্রিল ২০১৮ ইং শনিবার বিকাল অনুমান ৫ ঘটিকায় অপরাধ বিচিত্রার প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে শাখাওয়াত হোসেন, কাজী ফারুকের বুকে পিস্তল ধরে গুলির চেষ্টা করে। ২নং বিবাদী তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। তাকে বিবাদীগণ এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারে। ২ এবং ৩নং বিবাদী জামায়াতের সক্রিয় সদস্য। ১নং এবং ২নং বিবাদী বিগত কিছুদিন যাবৎ মতিঝিলের একটি অফিসে শলাপরামর্শ করতে দেখা যায়। মতিঝিলের ঐ অফিস থেকে বিএনপি এবং জামায়াতের পক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা এবং ষড়যন্ত্র করা হয়।
ফলে আইন শৃঙ্খলা অবনতির সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ২নং বিবাদী নাসির উদ্দিন মাসুককে কিছুদিন আগে অন্য ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মতিঝিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে ২/৩ ঘন্টা পর ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগ তিনি আরো বলেন, বিবাদীগণ তার পূর্ব পরিচিত এবং তাদের সাথে মনোমালিন্য আছে। অনুমান ২ বছর আগে ২ এবং ৩নং বিবাদী অপরাধ বিচিত্রায় প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে তার অফিসে সন্ধ্যার দিকে আসে এবং তাকে, সম্পাদক এবং অন্যান্য লোকজনের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যায়। একই জেলার লোক হওয়ায় তখন তিনি কোন আইনী ব্যবস্থা নেননি। গত ২১ এপ্রিল ২০১৮ ইং তারিখ সময় অনুমান ৫ ঘটিকার সময় ২ এবং ৩নং বিবাদী ১৮/১৯ জন্য নিয়ে তার অপরাধ বিচিত্রা অফিসে ঢুকে। তিনি তখন সম্পাদকের সামনে বসা ছিলেন। ১/২/৩ নং বিবাদী সম্পাদকের রুমে ঢুকেই তাকে নাম ধরে গালিগালাজ করতে থাকে এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই সামনের রুমের অন্য বিবাদীগণও সম্পাদকের রুমে ঢুকে পড়ে। অতঃপর ১নং আসামী তাকে বুকে পিস্তল ধরে, ২ নং বিবাদী তার গলা চিপে ধরে আমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। ৩নং এবং ৪নং বিবাদী তার দুই হাত চেপে ধরে, তাকে কিল, ঘুষি মারে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক ফুলা জখম হয়। ৪নং আসামী তার মানিব্যাগে থাকা ২,০০০/- টাকাসহ মানিব্যাগ নিয়ে যায়। ৬নং আসামী তার হাতে থাকা একটি নকিয়া মোবাইল সেট, সিমসহ এবং সামনে পকেটে থাকা ১,০০০/- টাকা নিয়ে যায়। অন্যান্য স্টাফরা তার শোর চিৎকারে দৌড়াইয়া আসিলে বিবাদীগণ সামনের রুমে চলে যায় এবং যাওয়ার সময় বিবাদীগণ ১টি কম্পিউটার সম্পূর্ণ ভেঙ্গে ফেলে, ২টি পিসি ও তিনটি মনিটর সহ মূল্যবান কম্পিউটার সামগ্রী নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়। যার আনুমানিক মূল্য ১,৭৫,০০০/- (এক লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) টাকা। ১নং এবং ৭নং বিবাদী গত ১১/০৪/২০১৮ ইং রাতে এবং দিনের বেলা অনুমান ২ ঘটিকার সময় তার, তার স্ত্রী এবং স্কুল পড়ুয়া ৩য় শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ রায়হান হোসেনের (৮) যেকোনরূপ ক্ষতির হুমকি দেয়। এই ব্যাপারে তিনি মতিঝিল থানায় একটি জি.ডি এন্ট্রি করেন। মতিঝিল থানার সাধারন ডাইরী নং- ৭৯৩, তারিখঃ ১১/০৪/২০১৮ ইং। ৬নং বিবাদী রুভেল হাসানের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার কারনে শাহবাগ থানায় জি.ডি করা আছে। শাহবাগ থানার সাধারন ডাইরী নং- ২৮৭, তারিখঃ ০৫/০৮/২০১৭ ইং। উল্লেখ্য, ১নং বিবাদী শাখাওয়াত হোসেনের নামে ফেনী মডেল থানায় ক্রোকী পরোয়ানা, গ্রেফতারী পরোয়ানা, বিনা পরোয়ানা গ্রেফতার করা যায়, এমন একাধিক মামলা আছে। গত ১৫ মার্চ ২০১৮ ইং তিনি ফেইসবুকে লাইভ ভাষণ দেন, সেই ভাষণে ফেনীর গডফাদার জয়নাল হাজারীর অপকর্মের ব্যাপক সমালোচনা করেন । গত ২১ এপ্রিল ২০১৮ ইং তারিখে সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় ফেইসবুকে লাইভ ভাষণ দেয়ার ঘোষণা দেন এবং যথাসময়ে ভাষণ দেন। ভাষণ দেয়ার কিছু সময় আগে বিবাদীগণ তাকে হত্যার চেষ্টা, তার অপরাধ বিচিত্রা অফিস ভাংচুর, লুটপাটের এই ঘটনা ঘটায়। তাদের ধারনা ছিল ২১ এপ্রিল ২০১৮ তারিখের ভাষণেও জয়নাল হাজারীর সমালোচনা করবে। বিবাদীগণের বেশিরভাগ জয়নাল হাজারীর অনুসারী। বিবাদীগণ এখনো অব্যাহতভাবে তাকে হুমকি দিচ্ছে। আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য ফেনী সমিতি ঢাকার নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী। প্রচারের জন্য ভোট ও দোয়া চেয়ে ১৭/১৮/১৯ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মতিঝিলে লাগানো তার ৩টি ব্যানারই বিবাদীগণ নিয়ে যায়। তারা যেকোন সময় তাকে হত্যা করতে পারে বলে মোবাইলে ও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।