Main Menu

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের নিশ্চিহ্ন করা হবে জঙ্গিদের মতো : র‍্যাব’র ডিজি

 

নিউজ ডেস্ক :

র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এবং প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায় করে তারাও এক ধরনের সন্ত্রাসী। এই প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের জঙ্গিদের মতো নিশ্চিহ্ন করা হবে।’ সোমবার (২ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দেশের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত জঘন্য কাজ আর না ঘটে। কারণ এতে আমাদের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো করে পড়াশোনা করে সার্টিফিকেট অর্জন করুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস যাতে না হতে পারে সেজন্য আগে থেকেই দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। আমরা গত তিন দিনে সাত দফায় আট জনকে নিয়ে আসছি। এদের মধ্যে সাত জনকে গ্রেফতার করেছি। যারা কোনও না কোনওভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। একজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছি। সে প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত ফেসবুকের একটি পেজের অ্যাডমিন।’

র্যাবের ডিজি বলেন. ‘আমরা তদন্ত করে দেখছি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ঘটনা মূলত অধিকাংশই প্রতারণা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলে টাকা আদায় করছে। এটা তাদের ফাঁদ। আমি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধ করবো, দয়া করে কেউ ফাঁদে পা দেবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি করছি, আমরা তৎপর রয়েছি। সেই সঙ্গে আমরা বিভিন্নভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি।’

অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে র্যাব ডিজি বলেন, ‘কোথাও কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য পেলে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। আমরা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক ঐক্যবদ্ধ হলে এই চক্র সফল হবে না। তাদের প্রতিরোধ করা যাবে। আমরা এই চক্রকে নিশ্চিহ্ন করতে চাই।’

ডিজি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যারা গ্রেফতার হয়েছে, তারা প্রশ্ন এনে দেবে বা ফাঁস করে দেবে এমন তথ্য পেয়েছি। তাদের সাত জনের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। অপরজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধেও কিছু পাওয়া গেলে, মামলা হবে।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গতবার এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত পরিক্ষার্থীদের অপরাধ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এবার আর তা হবে না। যদি কোনও পরিক্ষার্থীর কাছে বা অভিভাবকের কাছে কোনও প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়, সেটি সত্য অথবা মিথ্যা হোক, তাদেরও আমরা আইনের আওতায় আনবো। ’

বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ‘অতীতের ঘটনাগুলো আমরা এখনও তদন্ত করছি। তবে থানা পুলিশের মতো করে যেকোনও মামলার সরাসরি তদন্ত আমরা করতে পারি না। তারপরও প্রতিটি ঘটনার ছায়াতদন্ত আমরা করি। বিশেষ করে গতবার একটি ছেলে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিল, “প্রশ্ন ফাঁস করবো, পারলে ঠেকাও।” তার বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ রয়েছে। সে কে? তাকে খুঁজে বের করা হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘কোনও মামলার ছায়াতদন্তে যদি কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই, তাহলে সরকারের কাছে আবেদন করে ওই মামলা আমরা আমাদের কাছে নিয়ে আসবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত। শিক্ষকরা নিজেরাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। এটা খুবই লজ্জার যখন দেখি এক শ্রেণির শিক্ষকও এই ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। এই গুটিকয়েক শিক্ষককে প্রতিরোধ করতে শিক্ষক সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।’

আগামীকাল মঙ্গলবার আমাদের র্যাব সদস্যরা বিভিন্ন হলে ভিজিট করবেন। তারা পরিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। র্যাবের কর্মকর্তারও এবার মাঠে রয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কেনার জন্য। এভাবে ফাঁদ পেতেই তাদের ধরা হবে বলে জানান র্যাব ডিজি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *