Main Menu

দিরাইয়ের  টাংগুয়ার হাওরে এখনও  ২৫ ভাগ কাজ হয়নি ! 

 

নাইম তালুকদার : হাওর থেকে ফিরে :

দিরাই উপজেলায় চলতি বৎসরের বোরো ফসল রক্ষায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারি অর্থ হরিলুট চলছে কয়েক জায়গায়। লিখিত ও মৌখিক এবং মিডিয়াতে রিপোর্ট করেও প্রতিকার হচ্ছেনা জানালেন ভুক্তভোগীরা!

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টাঙ্গুয়া ও মৌয়ায় একাধিক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল ঘুরে আসলাম এমনি একটি প্রকল্প থেকে,  শালিয়ারগাও, বকশিপুর থেকে রাড়ইল হয়ে মিলনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত দুইটি পি,আই,সি,র’ বাধ নির্মাণ কার্যক্রম। ৬৬ ও ৬৬ (ক) সহোদর দুই ভাই, রাড়ইল গ্রামের বর্তমান মেম্বার চান মিয়া ও তার ভাই ছায়াদ মিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি! কাঁঠাখালী ভাঙ্গা হতে জনিকা কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ১হাজার মিটার রাস্তার মধ্যে মূল বাধ গত বছরের মাটিকাটা সম্পূর্ণ অক্ষত আছে। বাকি দীর্ঘ সড়কের গতবারের মাটির উপরি অংশ যৎসামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে! এগুলোতে নতুন মাটি না ফেলে স্থায়ী মাটিকে কেটে ছোট খাটো গর্ত ভড়াট করা হচ্ছে সকল নীতিমালা লঙ্ঘন করে। এলাকার সাধারণ কৃষকশ্রেণী- ইউ,এন,ও এবং এস,ও, কে একাধিকবার অবহিত করলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না মনিটরিং কমিটি।  জনিকা কালভার্ট সংলগ্ন ৩০-৪০ হাত মাত্র সড়কের উপর  ১ফুট উচ্চতায় মাটিফেলা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, কুমারখালি নদীর ওপারে হুরামন্ধিরার (জগদল ইউপি) অংশে ৪-৫ ফুট উচ্চতায় মাটি ফেলা হচ্ছে। অথচ ৬৬ নং(ক) প্রকল্প অপ্রয়োজনীয় ও লুটপাট করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট। এতে সরকারের ১৭ লক্ষ টাকা গচ্ছা যাওয়ার আশংকা ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কৃষকগণ। এবিষয়ে দিরাই পৌরসভার

সাবেক কাউন্সিলর ও  কুলঞ্জ ইউপির রাড়ইল নিবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক ইয়াহিয়া চৌধুরী বলেন আমার জানামতে প্রকল্প এলাকায় আমাদের পরিবারের ও আত্মীয় স্বজন এর কয়েকশ একর জমি থাকা সত্তেও ভূমিহীন দুই – পি,আই,সি’কে প্রকল্প কাজ দেওয়া হয়েছে, তারপরও যদি তাদের দ্বারা সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করা হতো তাহলে ভুক্তভোগী কৃষকগণ এব্যাপারে প্রতিকার চাইতেন না। ইউএনও এবং জেলা প্রশাসক বরাবর অনিয়ম ও স্বজনপপ্রীতির অভিযোগ এনে কৃষকদের পক্ষে আবেদনকারী-মুক্তিযোদ্ধা  মোঃ আলেক চৌধুরী বলেন প্রশাসনে দফায় দফায় লিখিত, মৌখিক ও ফোনে যোগাযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না!

পি,আই,সি,রা,কাজ না করে দম্ভভরে বলছে আমাদের দল ক্ষমতায় তাই হাজার অভিযোগ দিয়েও আমাদের কিছু হবেনা, আমাদের উপর মহলের আশির্বাদ আছে!  ৬৬(ক) প্রকল্পের ২য় অংশ রাড়ইল গ্রামের প্রাইমারী স্কুল থেকে মিলনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত। সরজমিন দেখা যায় পূর্বেকার সড়ক থেকে কিছুটা নিচু করে ২-৩শ মিঃ একদুই ফুট উচু করে মাটিফেলা হয়েছে যা সবমিলিয়ে কাজ ২০-২৫% হয়তো হবে! এব্যাপারে পি,আই,সি, ৬৬ (ক) সভাপতি ছায়াদ মিয়া ও ৬৬ নং সভাপতি ও বর্তমান মেম্বার চান মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে উনারা বলেন আজ ৩য় বিল উত্তোলন করেছি এজন্য দিরাই আছি! কাজ এখনো কিছু হয় নি কেন প্রশ্নের জবাবে চান মিয়া বলেন, ৩-৪দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে ইউ,এন,ও স্যার কে বাধ পরিদর্শন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাবো! দুই মাসে যেখানে কাজ ২০% হয়নি সেখানে ৩-৪ দিনে কাজ কিভাবে সমাপ্ত হবে প্রশ্নের- উত্তর না দিয়ে ফোন রেখে দেন তিনি! ইতিপূর্বে বাধ পরিদর্শনকালে তাকে পি,আই,সি, সভাপতি থেকে বাতিল করে দিরাই এসেই আবার বহাল করেন ইউ,এন,ও মঈনুদ্দিন ইকবাল। কয়েকজন কৃষক বলেন অপ্রয়োজনে অধিক বরাদ্দ দিয়ে লুটপাট করার জন্য এই প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির ইন্ধন ব্যতিত অকৃষক পরিবারে দুইটা প্রকল্প সম্ভব নয় যোগ করেন অনেক কৃষক।

বিভিন্ন প্রকল্পের বাঁধ পরিদর্শনকালে কৃষকরা এসব কথা বলেন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে তাদের হতাশার কথা জানান। পিআইসিতে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে এক পরিবারের মা-ছেলে, ভাই ভাতিজাদের দিয়ে পিআইসি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। দলীয়করণ ও মা-ছেলে ভাই ভাতিজাদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে টাংগুয়ার হাওর পাড়ের রাড়ইল গ্রামের বসিন্দা জামিল চৌধুরী বলেন, আমাদের টাংগুয়ার হাওরের শালিরগাও হইতে বকশিপুর রাড়ইল হয়ে মিলনগঞ্জ বাজার পযর্ন্ত পিআইসি নং ৬৬ (ক) এর সভাপতি ছায়াদ মিয়া, একই প্রকল্পের অপর অংশের পিআইসি সভাপতি চান মিয়া,ছায়াদ এবং চান মিয়া সহোদর ভাই এবং তাদের কোনো জমি এ হাওরে নেই। নীতি বহির্ভৃত ভাবে সহোদর দুই ভাইকে পিআইসির সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্প ৬৬ এর অপর অংশের পিআইসি সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান চান ও ছায়াদ মিয়ার মামা এবং সদস্য সৈয়দ আরব মিয়া হাবিবুর রহমানের নাতি। স্থানীয় কৃষকরা এ পিআইসিকে মামা ভাগিনা এবং নাতির পিআইসি নাম দিয়েছেন । জামিল চৌধুরী জানান তিনি এর আগে ১৯/০২/১৮ ইং তারিখে পি,আইসি,৬৬ ও ৬৬(ক) বাতিলের জন্য আবেদন করেন ইউ,এন,ও, বরাবর  আবেদনের অনুলিপি,স্থানীয় সংসদ সদস্য,পাউবো জেলা কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যানও এমনকি দুদক’কেও দিয়েছেন।

পরবর্তীতে ১-০৩-১৮ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক ও পাউবো বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি অনুলিপি দেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মহোদয় কে।

প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে নেতাদের পছন্দের লোক দিয়ে লুটপাট করার জন্য সকল পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মা-ছেলে ভাই ভাতিজা, মামা-ভাগিনা,নানা-নাতি দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজ এখনো শেষ হয়নি উপরোন্ত স্থায়ী বাধের মাটি কেটে নিচু করে দিচ্ছে, আমরা কৃষকের স্বার্থে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে  মিডিয়া সহ সকল মহলের সহযোগিতা চাই।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *