Main Menu

হোয়াটস অ্যাপেও সক্রিয় প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র | বাংলারদর্পন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন প্রদান, প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত তৎপরতা চালিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বিভ্রান্ত করছে এক শ্রেণির কুচক্রী মহল। এর মাধ্যমে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেব তারা ব্যবহার করছে ইউটিউব, ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি বিশেষ শাখা হোয়াটস অ্যাপও।

আগামী ২ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র রোধ ও পরীক্ষার সুশৃঙ্খলতা বজায় রাখতে এরইমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, জাতিকে মেধাশূন্য করার নিমিত্তে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের অনুসন্ধানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের উপর নজরদারী শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপের গ্রুপগুলোতে কড়া নজরদারী করছে তারা।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, HSC Question Out BD 2018, HSC ALL BD, BD Lion Group-সহ একাধিক হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতায় জড়িত। গ্রুপগুলো সম্প্রতি আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রুপগুলো থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র দেয়া হবে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং পরীক্ষা শুরু হলেই তারা মনগড়া ও বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্নপত্র ছড়াতে শুরু করবে।

এরইমধ্যে হেয়াটস অ্যাপের গ্রুপগুলোর ডাটাবেজ তৈরির কাজও শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ গ্রুপগুলোর এডমিন ও সদস্যদের উপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে। এমনকি এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ইউটিউব, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের গ্রুপের এডমিন ও সক্রিয়া কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর লক্ষ্য করা গেছে ক্রমেই ওই গ্রুপগুলোতে ফলোয়ার কমতে শুরু করেছে।

এদিকে প্রতারণা ও শাস্তির হাত থেকে নিজেকে এবং অন্যদের রক্ষা করতে এসব গ্রুপ থেকে দূরে থাকতে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলার পাশাপাশি তাদের প্রতিহত করতে প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে এ সমস্ত গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিপোর্ট করতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রণালয় যেমন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তেমনি আমরাও আমাদের দিক থেকে সজাগ রয়েছি। যেকোন মূল্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রচলনকে আমরা প্রতিহত করবো। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রশ্নপত্র ফাঁস তৎপরতা জাড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় একাধিক প্রশ্নপত্র ও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে কোনভাবেই পরীক্ষা শুরুর পূর্ব মুহূর্তেও সঠিক প্রশ্নপত্র নির্ধারণ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। কাজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাপ্ত প্রশ্নপত্র অবশ্যই প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে অভিভাবকদেরও সাবধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিজের সন্তান যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী গ্রুপ/পেজের সঙ্গে জড়িত থেকে শাস্তির আওতায় না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। কেননা প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতায় যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্তানের সংশ্লিষ্টতা পায় তবে সন্তানের পাশাপাশি ওই অভিভাবকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *