রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ সিন্ডিকেটের মাধ্যে দীর্ঘদিন দৌলতদিয়া ঘাটে চলে আসা চাঁদাবাজ ও মাদনক ব্যবসায়ীদের কে কঠোর ভাবে দমন করা হবে-রাজবাড়ীর নবাগত পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি (বিপিএম-সেবা)।
পুলিশ সুপার বলেছেন, রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম দৌলতদিয়া নৌরুট ও দৌলতদিয়া যৌন পল্লী দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সমস্যা ও মাদকের কিছু তথ্য আমি ইতি মধ্যে জানতে পেরেছি। এই বিষয় গুলি নিয়েই কাজ করবো। চেষ্টা থাকবে সমস্য গুলি যাতে আসতে আসতে সমাধান করার কিন্তু আমাকে সময় দিতে হবে।
বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, রাজবাড়ীকে মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ, চাঁদাবাজ, জুয়া মুক্ত করতে আমার যা যা করার প্রয়োজন আমি করবো, শুধু আপনারা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
তিনি বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে অনেক বড় ধরনের সিন্ডিকেট কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত যা ইচ্ছে করলেই এক দিনে শেষ করা সম্ভব না তবে আমার পক্ষ থেকে সকল প্রকার চেষ্টা থাকবে এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার।
সিন্ডকেটের সাথে পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ যদি পোনা মাছ খায়, ওখানে বোয়াল মাছ খায় কিন্তু অন্যরা বোয়াল মাছ যারা খাচ্ছে তাদের নাম কোথাও প্রকাশ হয় না। কিন্তু পুলিশের নামটাই সামনে এসে যায়। আমিও চাই যারা এই চাঁদাবাজদের সাথে সহযোগিতা করে তাদের নাম প্রকাশ পাক হোক সে পুলিশ সদস্য।
বোয়াল মাছ যারা খাচ্ছে তাদের হাতটাও অনেক বড় হয়ে থাকে এটা আপনারাও জানেন আমিও জানি।তাদর ধরাটাও কঠিন বিষয় হয়ে দাড়ায়। তাদের ধরতে হলে শক্ত হাতে জাল ফেলতে হবে। এই বোয়াল মাছ খেখোদের ধরতে হলে আমাকে সময় দিতে হবে আশা করি আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমি পারবো।হয়তো একাবারে শেষ করে বিপ্লব ঘটাতে পারবো না আমি। তবে সবকিছু একটি সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসতে পারবো।
১০ মার্চ শনিবার সকাল ১১ টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে রাজবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেছেন তিনি।
মত বিনিময় সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রাকিব খান, নবাগত পুলিশ সুপারের মত বিনিময় সভার আলোচনা সম্মুখে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে পরিচিত হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন , সদর থানার ওসি মো. তারিক কামাল ও ডিআই ওয়ান মোঃ জহুরুল ইসলাম।
মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খান মো: জহুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিন, প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন, বিটিভির প্রতিনিধি মোঃ সানাউল্লাহ, টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম হিরন, রাজবাড়ী সাংবাদিক ফোরাম এর সভাপতি খন্দকার রবিউল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক দেবাশিস বিশ্বাস, প্রথম আলোর প্রতিনিধি এজাজ আহমেদ, দৈনিক আমাদের সময় মোঃ রফিকুল ইসলাম, নিউজ ২৪ টিভির প্রতিনিধি শামিম আহাম্মেদ, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি শমিত্র শীল, বাংলা নিউজ২৪.কম প্রতিনিধি মোঃ আশিকুর রহমান প্রমুখ
নবাগত পুলিশ সুপার এর কাছে রাজবাড়ী জেলার কিছু বিদ্যমান সমস্যা র কথা তুলে ধরেছেন এবিনিউজ ২৪.কম এর প্রতিনিধি ও রাজবাড়ী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি খন্দকার রবিউল ইসলাম।
১ মাদক যা শুধু যুব সমাজকেই ধংষ করে না ধংষ করে দেয় একটি পরিবার কে ! ধংষ করে দেয় একটি জাতিকে, এই মাদক হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় রাজবাড়ী শহর এলাকা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন গুলোতেও। তাই সকল মাদক ব্যবসায়ীদের কে চিন্হত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজন।
২ দৌলতদিয়ায় ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশ র সবচে বড় যৌনপল্লী! যে পল্লীতে বাংলা মদ থেকে শুরু করে এমন কোন নেশার মাদকদ্রব্য নেই যা সেখানে পাওয়া যায় না। ৩ রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ পৌর এলাকার মধ্যে ২ টি বাংলা মদের দোকান রয়েছে তাদের সরকারি লাইসেন্স আছে। তবে এই মদ ব্যবসায়ী রা শুধুমাত্র যাদের খাওয়ার লাইসেন্স আছে তাদের কাছেই মদ বিক্রি করতে পারবে এমন টাই তাদের লাইসেন্স এর সর্থ আছে যত যতদূর জানি।
কিন্তু তারা সেই নিয়ম অমান্য করে কালোবাজারে খাওয়ার লাইসেন্স নেই এমন লোকদের কাছে মদ বিক্রি করে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। যার কারনে খুব সহজেই বাংলা মদ সাধারণ মানুষের কাছে পৌছেঁ যায়। এ সকল মদের দোকান থেকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী তে ২৩ কিলোমিটার দূরে কিভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই মদ নিয়ে যায় এটা কি পুলিশের চোখে পরে না ?
৪ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট যে ঘাট দিয়ে ২১টি জেলার প্রায় ৪হাজারেরও বেসি যানবাহন পারাপার হয়।
এই ঘাটে যে ভাবে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে কারা করে কি ভাবে করে পুলিশের হয়তো অজানা নয় ! কি ভাবে ট্রাকের ফেরির টিকিট ৭৪০ টাকার টিকিট ১২০০/২০০০ হাজার টাকা করে নেন দালালরা ? ট্রাকের চালকরা নিজেরা টিকিট কাটতে গেলে তাদের কে টিকিট দেওয়া হয় না । আবার দালালদের হাতে খেতে হয় মার ট্রাক চালকদের। দালাল ছাড়া যে ঘাটে ফেরির টিকিট পাওয়া যায় না। এই সমস্যা গুলির সমাধান করা খুব জরুরী এ ঘাটের চাঁদাবাজি তে অতিষ্ঠ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ।