Main Menu

নরম কর্মসূচিতেও শঙ্কা : সরকারের কৌশল বুঝতেই ধরাশয়ী বিএনপি

 

ডেস্ক রিপোর্ট : ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পূর্বে সরকারকে নানান রকম হুমকি-ধামকি দিলেও রায়ে দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাবার পর শক্ত কোনো কর্মসূচি দেয়নি বিএনপি। রায়ের পূর্বে অবশ্য বেগম জিয়ার নির্দেশনাও তেমনই ছিল বলে জানা যায়। কেননা বিএনপিতে ধারণা ছিল নিম্ন আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলেও সরকার তাকে কারাগারে না নিয়ে হয়তো তার বাসাকেই সাব-জেল বা বিশেষ কোনো জেল স্থাপন করে সেখানে রাখবে এবং কয়েকদিন পরেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসবেন তিনি। কিন্তু বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত হওয়ায় কোনো হিসেব মিলাতে পারছেন না বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তাই অপ্রস্তুত অবস্থায় পূর্ব নির্ধারিত নরম কর্মসূচির বাইরে আপাতত যেতে পারছে না বিএনপি।

তবে সমালোচকগণ বলছেন, শুধু সরকারের কৌশল বুঝতে অসামর্থের কারণেই নয়, একদিকে রায় পূর্ববর্তী সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রায়কে নিয়ে জনমনে সম্ভাব্য সহিংসতার অশঙ্কা প্রকাশ যা ২০১৪-১৫ সালে নির্বাচন কেন্দ্রীক বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার পরিণতি ও অন্যদিকে সরকারের শক্ত হাতে তা দমনের ফলে তার ব্যর্থতার কারণেও পুনরায় সে পথে হাঁটার সাহস করেনি বিএনপি। এছাড়া শক্ত আন্দোলনের সামর্থের অভাব, দুর্নীতি ইস্যুতে জোটে অনৈক্য এবং দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন না পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ফলে বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের সপ্তাহান্তেও মানববন্ধন, অবস্থান ও অনশন কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে বিএনপিকে। কিন্তু এমন নমনীয় ও নরম কর্মসূচিতেও ভাটা পড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। কেননা ৯ ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচি ও পরদিন প্রেসক্লাব ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অনেক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেলেও পরবর্তী দিনগুলিতে ক্রমেই নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করে।

এর কারণ হিসেবে বলা যায়, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে নিজ দলের আইনজীবীদের ভুল আশ্বাস ও পরামর্শের ফলে প্রকৃত পরিস্থিতিতে তার জামিন দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়ায় একদিকে নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি এবং অন্যদিকে গ্রেফতার আতঙ্কে শীর্ষ নেতাদের কর্মসূচি এড়িয়ে চলার ফলেই কর্মীদের উপস্থিতিও কমতে শুরু করেছে। এছাড়া অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশলের প্রতি অনাস্থা এবং এমন কর্মসূচি দীর্ঘায়িত হলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বন্ধ হয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে পড়ার অশঙ্কা দেখা দেয়ায় ও তাতে ভাটা পড়েছে বলে জানা যায়। আর এভাবেই নরম কর্মসূচিও ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিএনপিতে।

মূলত সরকার বিএনপিকে ক্রমেই কোন দিকে নিয়ে যেতে চাইছে সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না বিএনপি। সরকারের কৌশলে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলেও দলের কান্ডারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে দিলে জনসমর্থন পেয়ে আন্দোলন সফল হবে এমন ধারণাও বর্তমানে ভুল প্রমাণিত হতে শুরু করেছে। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় দণ্ড থাকায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড এলার্ট ও যুক্তরাজ্যের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে তাকে দেশে এনে কারাগারে দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ব্যক্তিনির্ভর দল বিএনপি অচিরেই নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

কাজেই সার্বিক পরিস্থিতিতে সকল ইস্যুতেই আন্দোলনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, নেতৃত্বে শুন্যতা সৃষ্টি, জনগণের সম্পৃক্ততা সৃষ্টিতে ব্যর্থতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থতায় পুরো পরিস্থিতি সরকারের অনুকূল ও নিয়ন্ত্রণে থাকায় মূলত বিএনপি বর্তমানে তাদের করণীয় নিয়েই দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্দেহ, অবিশ্বাস ও কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি তাদের নেতৃত্বের অপরিণামদর্শিতার কারণেই কার্যত সরকারের কৌশলের কাছেই ধরাশয়ী হয়েছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *