Main Menu

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিার নির্দেশে রাহুমুক্ত হচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন

 

ডেস্ক রিপোর্ট :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিার নির্দেশে অবশেষে শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ রাহুমুক্ত হচ্ছে। অতিদ্রুত বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার রাজধানীর এক অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী এমন নির্দেশনা পেয়েছেন বলে একাধিক সূত্র দৈনিকশিক্ষাডটকমকে নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মন্ত্রীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ড ও ঢাকার কয়েকটি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন যাবত আঁকড়ে রয়েছেন কয়েকডজন কর্মকর্তা। এই চক্রটি শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল, মাধ্যমিকের জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর, স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেয়ার বিরোধীাতা করে আসছে। এমনকি জাতীয়করণের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ফাণ্ড গঠন এবং ১৪ লাখ শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। এই চক্রটিই ঘুরেফিরে শিক্ষাপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আাসীন। সব কাজের তাদের সরব উপস্থিতি। পক্ষান্তরে আাওয়ামী লীগসহ অন্যান্য প্রগতিশীল মনস্ক কর্মকর্তারা কোনঠাসা।

এই চক্রটি টাকার বিনিময়ে পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র পাওয়ার অনুমোদন, একাডেমিক স্বীকৃতি, এমপিওভুক্তি, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ যাবতীয় অপকর্মে লিপ্ত। চক্রটি শিক্ষা প্রশাসনে নানা ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।এসব কর্মকর্তাদের চলতি সপ্তাহেই বদলি করা হতে পারে। দুএকজনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

একটি সংস্থার তথ্যমতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জাতীয়করণের বিরুদ্ধে উসকানি ও বদলি বাণিজ্যে লিপ্ত। সম্প্রতি ২০ দিনের জন্য বিদেশ সফরে যাওয়ার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কয়েকজন জামাত-বিএনপিন্থী কর্মকর্তার সঙ্গে তার মিরপুরের বাসায় গোপন বৈঠক করেন। ওই কর্মকর্তা একটি শিক্ষাবোর্ডের জামাতপন্থী চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশ সফরে গেছেন। ঢাকা বোর্ডের চেয়াম্যান পদটি নিলামে উঠিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি। তার পছন্দের বনমালীকে বসাতে চান মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা। মন্ত্রণালয়ের অপর একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন উপ-সচিবের বিরুদ্ধেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। একজন উপ-সচিব ১২ বছর যাবত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মরত। তার বিরুদ্ধে আন্তজার্তিক শিক্ষা মাফিয়াদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিনেতা আবদুল্লাহ আল নোমান মৎস ও পশুসম্পদ মন্ত্রী থাকাকালে (২০০২-২০০৬) এই উপ-সচিব সচিবালয়ের মি: ৩০ পার্সেন্ট নামে পরিচিত ছিল।

অপর এক সূত্রমতে, কলেজ জাতীয়করণের বিরোধীতায় অর্থ যোগানদাতা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে জুতা পায়ে প্রবেশ করে আলোচিত শিক্ষা অধিদপ্তরের অধুনালুপ্ত একটি শাখার একজন উপ-পরিচালক চেষ্টা করছেন পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে পদায়ন নিতে। তবে, তার শেষ আশা পূরণ না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। চাকরি জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি সব লোভনীয় পদে চাকরি করেছেন।

অধিদপ্তরের আরেক জামাতপন্থী উপ-পরিচালক (এইচআরএম) উপ-সচিব হওয়ার তদবির করছেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ –দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক। ‘খ’ আদ্যাক্ষরের আরেকজন জামাতপন্থী উপ-পরিচালক বিতর্তিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুষ নেয়াসহ অধিদপ্তরের সব কেনাকাটা ও মালামাল সরবরাহের পার্সেন্টেজ খাচ্ছেন দেদার।

উচ্চমাধ্যমিকের উপ-বৃত্তি প্রকল্পের উপ-পরিচালক শ ম সাইফুলের দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয় গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর। যুগান্তরের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘অর্ধেক পিডির বাকিটা ডিপিডির : উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পে লুটপাট’। প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর একটি সংস্থা থেকে অনুসন্ধান চালালে প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয় শাইফুল স্বাধীনতাবিরোধীদের পত্র-পত্রিকার সামারি তৈরি করে জামাত-বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করেন। তার কক্ষে শিবিরপন্থীদের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের দেখা যায় মর্মে অভিযোগ রয়েছে। সাইফুল ২০০২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ঘুরেফিরে উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত রয়েছেন। তার মতামত জানার জন্য কয়েকবার তার অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে ০১৭০৫৩৮৬৭৫৬ ফোন করেও বন্ধ পাওয়া যায়। প্রকল্প অফিস থেকে জানানো হয় প্রকল্প পরিচালক অবসরে যাওয়ায় সাইফুল স্যার পরিচালক হওয়ার তদবির করছেন। তিনি প্রকল্প পরিচালকের গাড়ী ব্যবহার করছেন কয়েকদিন যাবত।

মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে রয়েছেন ফরিদ হোসেন। একই প্রকল্পের অপর কর্মকর্তা তৌফিক এরফানের বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ।

মাধ্যমিক শাখার একজন জামাতপন্থী উপ-পরিচালক সারাদেশের সরকারি স্কুলের জামাত-বিএনপিন্থী প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে থেকে টাকা তুলে কিছু নিজে রাখেন ও কিছটা ভাগা দেন মন্ত্রণালয়ের দুইতিনজনকে। রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায়শই গোপণ বৈঠক করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনলাইনে এমপি বহাল রাখার পক্ষে দুর্নীতিবাজ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছেন তিনি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *