Main Menu

ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে শিক্ষানবিশ কাল —চৈতালী হালদার চৈতী

ডেস্ক রিপোর্ট :

রাজনীতির হাতখড়ি পরিবার থেকে। বঙ্গবন্ধুর সময়ে দাদা ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোর সভাপতি। সে পথেই পা বাড়িয়েছেন মা শোভা রানী হালদার/ যিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দীর্ঘ ২০ বছর যাবত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যও তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন খুলনায় জনসভা করেন, তখন মায়ের হাত ধরেই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যান। সেই থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়েই পথ চলছেন এখনও। তিনি চৈতালী হালদার চৈতী।

উপজেলা ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু হলেও নানা ধাপ পেরিয়ে এখন তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। স্বপ্ন দেখেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সোনার বাংলাদেশ গঠনে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করতে চান। ছাত্রলীগের আগামী কাউন্সিল ও সাম্প্রতিক ছাত্র রাজনীতি নিয়ে চৈতীর সাক্ষাতকার।

প্রতিবেদক: আমাদের দেশের রাজনীতিতে সাধারণত নারীদের অংশগ্রহণ কম। আপনি রাজনীতিতে কেন নিজেকে জড়ালেন?

চৈতালী হালদার চৈতী: আমার আসার শুরুটা পারিবারিকভাবেই। আমার দাদু বঙ্গবন্ধুর সময়ে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোর সভাপতি ছিলেন। তখন থেকেই এলাকার মানুষ দাদুকে ভালোবাসতেন। এরপর আমার মা। আমার জন্মের আগ থেকেই তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। পাশাপাশি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমি রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা আমার দাদু আর মার কাছ থেকেই পেয়েছি।

সরাসরি শুরু করলেন কবে থেকে?

আমি আমার মার সঙ্গেই ছোট থেকেই মিছিলে যেতাম। মা আমাকে সব সময় কর্মসূচীতে নিয়ে যেতেন। একটা গল্প বলি-৯৬ সালে দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন খুলনা সার্কিট হাউজে এক জনসভায় গিয়েছিলেন। আমি তখন ক্লাস থ্রি বা ফোরে পড়ি। মায়ের সাথে তখন প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে দেখি। সে সময় থেকেই দেশরত্নের প্রতি যে ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে, আজও তার কমতি নেই। খুলনায় থাকতে আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম। সব কর্মসূচিতে আমার অংশগ্রহণ ছিলো সক্রিয়। উপজেলায় বিভিন্ন জাতীয় প্রোগ্রামের উপস্থাপনাও আমিই করতাম।

এখন আপনি কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি। এতদূর কীভাবে এলেন?

হ্যাঁ, এখন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে বিগত কমিটির (সোহাগ-নাজমুল) সহ-সম্পাদক ছিলাম। ২০১০-এ যখন আমি ক্যাম্পাসে আসি তখন আমি বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ছিলাম। ওই সময় হলে এক বড় আপু ছিলেন, যিনি আমার মার পরিচয় পেয়ে আমাকে তার রুমে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। মূলত ক্যাম্পাসে রাজনীতির সঙ্গে তখন থেকেই আমার পথ চলা। আপনারা জানেন, ২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুফিয়া কামাল হল প্রতিষ্ঠা করেছেন। মৈত্রী হল থেকে আমাকে সুফিয়া কামাল হলে দেয়া হয়। আমিই এই হলে এসে ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য তখন আমি প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি ক্যান্ডিডেট হয়েও দায়িত্ব পাইনি। তবে আমাকে দল মূল্যায়ন করে পরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে।

দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে আমরা নারীদের সুদৃঢ় অবস্থান থাকলেও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে ওইভাবে দেখা যায় না। ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

আমি বিশ্বাস রাখি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমার আস্থা রয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুকে তো দেখিনি, দেশরত্নকে পেয়েছি। আমার সকল প্রেরণার উৎস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আমি এখানেই শক্তি পাই। প্রধানমন্ত্রীর এই শক্তি-সাহস আমাকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রেরণা দেয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগে সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে নারী নেতৃত্ব আসেনি, আমি বলবো এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। আমাদের যোগ্যতা ছিল না বা নেই, আমি তা মনে করি না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে চৈতী। -ফাইল ফটো

ছাত্রলীগের কাউন্সিল নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

ছাত্রলীগ অতিতে কখনো নেতা নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন আশির্বাদে চলা এ সংগঠন আগামীতেও কখনো এ ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে না বলে আমার বিশ্বাস। যোগ্যরাই ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসবে। সে পুরুষ হোক কিংবা নারী হোক।

আগামীর জাতীয় রাজনীতি নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে শিক্ষানবিশ কাল। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এখন যারা প্রতিষ্ঠিত তারা অধিকাংশই ছাত্র রাজনীতি করে এসেছেন। আমি আমার দলের জন্য আজীবন কাজ করতে চাই। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি। দল যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমাকে বিবেচনা করেন তাহলে অবশ্যই দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবো। আর যদি দল আমাকে যোগ্য নাও মনে করে, তাহলেও দলের একজন কর্মী হয়ে আজীবন দলের জন্য কাজ করে যাব।

আপনি তো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত…।

সাংস্কৃতিক বোধ একজন মানুষকে পরিশীলিত করে। ভীষণ ভাবে পরিশীলিত করে। একজন সাংস্কৃতিক চেতনা ধারণকারী আর আর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক তফাৎ। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন হবে না। এবং বর্তমানে জঙ্গিদের যে তৎপরতা আমরা দেখছি এটা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করার মধ্য দিয়ে তরুণ সমাজকে আমরা এর মধ্য বের করে আনতে পারবো। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। বঙ্গবন্ধু যেমন আমাদের সবথেকে বড় প্রেরণা, তেমনি রবি ঠাকুর, নজরুল, হাসন রাজা, লালন,জয়নুল তাদেরকে যদি আমরা সকল ক্ষেত্রে তাদের দর্শন ধারণ করতে পারি তাহলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ দিয়ে শেষ করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ এবং বাম সংগঠনগুলোর যে মুখোমুখি অবস্থান, এটাকে কীভাবে দেখছেন?

আমরা সেদিন বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের যে অবস্থায় দেখেছি, সেটা খুবই ন্যাক্কারজনক। তারা ভিসি স্যারের গেট ভাঙচুর করছেন। এটা দেখে আমি অবাক হয়েছি। কারণ তারাও তো নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে। তাছাড়া তাদের মূল যে দাবি, সাত কলেজের অধিভূক্ত বাতিল করতে হবে। এটা নিয়ে তো বিশ্ববিদ্যালয় বলেছেন যে তাদের কার্যক্রম তাদের কলেজেই করবে। তারপরও কেনো এই আন্দোলন আমি বুঝি না। তবুও কেউ দাবি করতেই পারি, কিন্তু সেটা অবশ্যই সহনশীল হতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ভিসি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হলেন। আপনার বাবাকে যদি কেউ লাঞ্ছিত করে তাহলে আপনি নিশ্চয় বসে থাকতে পারেন না। সেকারণেই ছাত্রলীগ ভিসি স্যারকে সেই লাঞ্ছনা মানতে পারেনি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *