ডেস্ক রিপোর্ট :
আবারও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র জাতীয় পার্টির মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
ভোটের আগে যেভাবে ভোট প্রার্থনা করেছেন, বিজয়ী হওয়ার পর ঠিক সেভাবেই মোটরসাইকেলে
যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। তাকে নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তিনি সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।
গত ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটিতে ভোটের পরদিন থেকেই মাঠে নেমেছেন নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তফা। নির্বাচনে বিদায়ী মেয়র ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুর চেয়ে ৯৮ হাজার ৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন মোস্তফা। লাঙল প্রতীকে তিনি পান এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট। আর নৌকা প্রতীকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরফুদ্দীন ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট।
ভোটের পরদিন নবনির্বাচিত মেয়র ফুল নিয়ে যান পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর বাড়িতে। ঝন্টুকে তিনি বলেন, ‘আপনি আমার বড় ভাই। সিটি পরিচালনায় আপনি আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।’ একইভাবে ফুল নিয়ে যান বিএনপির পরাজিত প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার বাড়িতেও। তার কাছেও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মঙ্গলবারও নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে মাহিগঞ্জ, তাজহাট, আদর্শপাড়াসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে যান মেয়র মোস্তফা।
মাহিগঞ্জ এলাকার ভোটার আউয়াল মিয়া বলেন, ‘সত্যিই অবাক হয়েছি। মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ভোটের আগে এসে ভোট চেয়েছেন; বিজয়ী হওয়ার পরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন আমাদের কাছে এসে! চাইছেন সার্বিক সহযোগিতাও। এমন মেয়রই আমরা চেয়েছিলাম, যিনি সব সময় সুখে-দুঃখে আমাদের পাশে থাকবেন।’
ফুটপাতের চা দোকানি আলী মিয়া বলেন, ‘দু’দিন পর মেয়র মোস্তফা আমার কাছে এসে আমাকে কৃতজ্ঞতা জানান। ফুটপাতে বসে চাও খেয়েছেন। মাটি ও মানুষের মেয়র তিনি, যিনি সবার সাথেই সমানভাবে মিশবেন।’
নগরীর মডার্ন মোড় এলাকার আক্কাস আলী বলেন, ‘এমন মেয়র দেকি হামাক ভালোয় নাগোচে। হামরা তো গরিব মানুষ। হামার খোঁজখবর নেবার পাশাপাশি সিটির উন্নয়ন করবে এটায় হামরা আশা করি।’
এ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সমকালকে বলেন, ‘আমি রংপুরের সর্বস্তরের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সবার সহযোগিতায় আধুনিক ও মডেল সিটি হিসেবে রংপুর মহানগরী গড়তে চাই। নির্বাচনের আগে যেভাবে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছিলাম, বিজয়ী হওয়ার পর আবার তাদের কাছে যাচ্ছি কৃতজ্ঞতা জানাতে।’