দাগনভুঞা পৌরসভায় এডিপির দেড় কোটি টাকা হরিলুট

 

বাংলারদর্পন।।

ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সহ রাজস্ব খাতে দেড় কোটি টাকার ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো কাজ হয়নি । এই সব ভুয়া প্রকল্পে রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মান ও সংস্কার সহ স্মৃতি স্তম্ব সংসকারের নাম রয়েছে। ফেনী স্টাইলে বরাদ্দের পুরো টাকাই মেয়রের মো. ওমর ফারুক খানের পকেটে। কতিপয় অনুগত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে এ বিপুল অর্থ পুকুর চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্যানেল মেয়র সহ পৌর নাগরিকেরা । চলতি বছরের সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয় প্রতিবেদন চেয়ে পাঠালে  বিষয়টি পৌর পরিষদের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হয়। পৌরসভায় উক্ত টাকায় কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত না হওয়ায় এই নিয়ে কাউন্সিলর সহ পৌর নাগরিকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও অন্তোষ সৃষ্টি হয়।

সূএ জানায় , চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এডিপির বরাদ্দ ও রাজস্ব খাতে থেকে ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার দেয় দাগনভূঞা পৌরসভা । এই সব প্রকল্পের ব্যয দেখানো হয় দেড় কোটি টাকা।

এই প্রকল্প গুলো হচ্ছে, পৌর এলাকার দাসপাড়া সড়ক সংস্কার ও  ড্রেন নির্মাণ, হাসপাতাল সড়ক উন্নয়ন, প্যান্টাগন হাসপাতাল সড়ক উন্নয়ন, দোস্ত মোহাম্মদ ভূঞাবাড়ি সড়কে কার্পেটিং, ফারুক মিয়ার বাড়ির সড়কে ম্যাকাডম, রহিম আমিনের বাড়ির দরজায় ইট বিছানো, হাজি জাফর মিয়ার বাড়ির সড়ক ম্যাকাডম, মনু মোল্লা সড়কের পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ, নেয়াজ মেম্বার পুকুরপাড় উন্নয়ন, ডা. হারাধনের বাড়ির সড়ক মেরামত, বাবুলের বাড়ির পকুরপাড় উন্নয়ন, খেজুরগাছতলা-উত্তর শ্রীধরপুর সড়ক মেরামত, কালভার্টের পাশে হাজি ক্লিনিকের পেছনের সড়ক উন্নয়ন, মাজার রোডে প্যালাসাইডিং কাজ, আলাইয়াপুরে চৌকিদারবাড়ি, মাঝিবাড়ি, আইয়ুব আলী ড্রাইভার বাড়িসংলগ্ন সড়কে ইট বিছানো, সবুজের বাড়ির সড়ক ম্যাকাডম (ইটের খোয়া ফেলে ভরাট করা), উত্তর শ্রীধরপুর মসজিদ সড়কে কার্পেটিং, সিদ্দিকুর নেছা স্কুল সড়কের বাকি অংশে ম্যাকাডম, ইমান আলী হাজি সড়ক উন্নয়ন, সুদ্রুবাড়ি সড়ক ম্যাকাডম, বেতুয়া সড়কে গাইডওয়াল সংলগ্ন প্যালাসাইডিং, গাইডওয়াল রং করা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন, নতুন গলি সিসি দিয়ে উন্নয়ন, দাসপাড়া সড়ক উন্নয়ন, উপজেলা পরিষদের বিজয় চত্বর টাইলস উন্নয়ন, মোস্তফা মেম্বার বাড়ির দরজায় সলিংয়ের কাজের বাকি অংশ। ।

টেন্ডারে প্যান্টাগন হাসপাতাল সড়ক ও দাসপাড়া সড়ক ও ড্রেন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয় । এই তিন প্রকল্পের জন্য খরচ দেখানো হয় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা।

এই এলাকায় সরেজমিনে যায় এ প্রতিবেদক । সরেজমিনে দেখা যায় সড়ক ও ড্রেনের দুরঅবস্থা ও ভোগান্তির চিএ । সড়কগুলোর  এই বছর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়েছে বলে স্খানীয় বাসিন্দারা কেউ জানে না। সড়ক উন্নয়ন না হওয়ায় এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ তারা । দাসপাড়া পূজামণ্ডপের সাধারন সম্পাদক বিজন বিহারী ভৌমিক সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। বিজন বিহারী জানান, উপজেলার প্রধান পূজামন্ডপের সড়ক হিসাবে ‘দূগাপূজার আগে  মেয়রের কাছে গিয়ে এই রাস্তার কাজ করার দাবি করি ছিলাম। মেয়র জানিয়ে ছিল পৌর ফ্যান্ডে কোন টাকা নাই ।এখন কোন কাজ করা যাবে না। পরে এক ট্রলি ইটের খোয়া ফেলে কিছু গর্ত ভরাট করে দেয় পৌরসভার লোকজন । কিন্তু এতেও ভোগান্তি শেষ হয়নি।

দাগনভূঞা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ১ সাইফুল ইসলাম  বা অভিয করেন, এসব প্রকল্পে কোনো কাজই হয়নি। পুরো মেয়র এর চাচাতো ভাই যুবদল নেতা আবু নাছেরের মালকীয় ঠিকাদারী প্রতিস্ঠান ফাহমিদা ট্রেডাস সহ নামে বেনামে প্রতিষ্টানের মাধ্যমে এসব ভূয়া প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে কয়েক বিলও তুলে নেয় মেয়র।

প্যানেল মেয়র ১ সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, পৌরসভার সবশেষ  মাসিক সভায় পৌরসভায় আমার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হাজি ক্লিনিকের পেছনের সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। এটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। এখন দেখি এই সড়কটিও উন্নয়ন কাজ হয়েছে দেখিয়ে কাজ  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে লোপাট করা হয়েছে।

তিনি এই প্রতিবেদককে সব কয়টি  প্রকল্প সরেজমিনে ঘুরে দেখান।এই সময় ওই সব এলাকার সাধারন নাগরিকেরা এই প্রতিবেদকে বলেন, এই সব প্রকল্পে একটিতেও কাজ হয়েছে এমন প্রমান নেই।

প্যানেল মেয়র ১ সাইফুল বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়  চিঠি আসার পর  ২১টি  প্রকল্প ঘুরে আমি কাজের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। বিষয়টি পৌর পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ দিকে যাবো।

 

পৌর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ আহমেদ এর কাছে এই নিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষযটি এডিয়ে যান।পরে বলেন, মেয়র এই বিষয় আপনাদেরকে জানাবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক ফেনী এক পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন ,

দাগনভুঞা পৌরসভা  অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সরকারি অর্থ ভিন্নরূপে খরচ করা তহবিল-তছরুপ এবং দুর্নীতির শামিল। দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।চলতি বছর এডিবির বরাদ্ধে সোয়া এক কোটি টাকা গত বছরের দেনা প্রদান করা হয়েছে। এই  বছরের প্রকল্প যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *