বাংলারদর্পন >>
চট্টগ্রাম: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের দুঃখ ‘জলাবদ্ধতা’ দূর করতে একনেক অনুমোদিত ৫৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের ডিপিপি স্টাডি করে এক সপ্তাহের মধ্যে ‘ভালোমন্দ’ জানাতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (০২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মেয়রকে এ নির্দেশ দেন।
মেয়র বাংলানিউজকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয় এক সপ্তাহের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে গৃহীত মেগা প্রকল্পের পজেটিভ ও নেগেটিভ দিকগুলো ডিপিপি স্টাডি করে পাঠাতে বলেছেন। পরের সপ্তাহে তিনি মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করবেন।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, মন্ত্রী মহোদয়কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো অবহিত করেছি। বিশেষ করে বিমানবন্দর থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি খুবই জরুরি বলে অভিমত দেন।
চসিকের জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মেয়র চসিকের পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়ন, সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মেয়র চসিকেরে দায়িত্ব পালনকালীন ৭১৬ কোটি টাকার প্রকল্প এবং সোমবার (৩০ অক্টোবর) ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনসহ বিএমডিএফের অধীনে ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং জাইকার মাধ্যমে নানা প্রকল্প সহায়তা দিয়ে চসিকের সেবায় অবদান রাখায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মেয়র চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, বিশ্বমানের বাসপোযোগী নান্দনিক শহর গড়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীর আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এ সময় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রিয় নগরী চট্টগ্রামের স্বার্থে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তিনি শতভাগ আন্তরিক। এ সহযোগিতা পাওয়ার জন্য যথানিয়মে প্রকল্প তৈরি এবং প্রেরণের জন্য মেয়রকে নির্দেশ দেন।
এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় চট্টগ্রামের ৩৬টি খালের ৫ লাখ ২৮ হাজার ২১৪ ঘনমিটার মাটি খনন ও ৪ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার কাদা অপসারণ, ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সাইড ড্রেন নির্মাণ, প্রায় ১০৭ একর জমি অধিগ্রহণ, ৪ হাজার ৫১৫ বর্গমিটার স্থাপনার ক্ষতিপূরণ, ১৭৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপন, ৬টি কালভার্ট প্রতিস্থাপন, ৫টি টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাম্প স্থাপন, বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার স্থাপন, বিদ্যমান ৩০২ কিলোমিটার ড্রেনের সংস্কার ও মেরামত, ২ হাজার বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তর, ৮৮০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে।
সরকারি অর্থায়নে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্পটি। এ প্রকল্পের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে।