পদ্মা সেতু বদলে দেবে মানুষের জীবন

 

বাংলার দর্পন ডটকম : ১৩ অক্টোবর ২০১৭।

শরীয়তপুর জেলার জাজিরার মঙ্গল মাঝির ঘাটে চায়ের দোকান আব্দুল লতিফ মাতবরের। ষাটোর্ধ মানুষটি আগে অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিল ফেরি করে বিক্রি করতেন। বয়স বাড়ার কারণে কায়িক শ্রম কমাতে গিয়ে ব্যবসায়টি ছেড়ে দিতে হয়েছে তাঁর।

বছর দুয়েক আগে ঘাটে চায়ের দোকানটি দিয়েছেন। ওদিকে পদ্মাসেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী বছরেই উদ্বোধন হওয়ার কথা সেতুটি। সেক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ফেরিঘাট। তবে কি তাঁকে আবারও পেশা পরিবর্তন করতে হবে? একই কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব ঘাট। আর জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেকের।

অবশ্য এসব নিয়ে চিন্তিত নন লতিফ মাতবর। বললেন, বেঁচে থাকলে তখন অন্য কিছু করব। আর ব্রিজ হয়ে গেলে করার মতো অনেক পথ বের হবে। সেটা হয়ত আগে থেকে বোঝা যাচ্ছে না। ব্রিজ উদ্বোধনের মাস ছয়েক আগে থেকে ঠিকই বোঝা যাবে, পথও বের হবে। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেতুটি হওয়া খুব দরকার বলে মনে করেন তিনি।

উদাহরণ দিয়ে বয়সে তরুণ ব্যবসায়ী আখলাক মিয়া বলেন, দেশে যখন কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়েছে। তখন অনেকেই বলতো, সব কাজ কম্পিউটারে করবে, মানুষ বেকার হয়ে যাবে, আসলে তাতো হয় নাই। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সুফলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এই দেখেন আমি ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিলাম। পরে আবার বিকাশের ব্যবসায় বাড়ালাম। মোবাইলের টুকটাক পার্সও বিক্রি করি। এভাবে কত মানুষ কত কী করছে।

আবার সেতুর প্রসঙ্গে ফিরে তিনি বলেন, মানুষ বেকার হয়ে যাবে, এ রকম চিন্তা করার দরকার নাই। শুধু আল্লাহর রহমতে ব্রিজটা হয়ে যাওয়া দরকার। দেখবেন কত রকমের চাকরি বা ব্যবসায়ের পথ খুলে যাবে।

লতিফ মাতবর ব্রিজের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জমি অধিগ্রহণ নিয়েও কথা বলেন। অধিগ্রহণে নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, চরে আমার পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। সরকার অধিগ্রহণ করার কারণে বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে আমার বোনদের কাছ থেকেও রেজিস্ট্রি নেয়। সে কারণে টাকার ভাগও তাঁদের দিতে হয়েছে। কিন্তু অধিগ্রহণ না করলেতো আর বোনেরা সম্পত্তির হক নিতো না। আমরা ভাইয়েরা ভাগাভাগি করে ভোগ করতাম। এখন টাকা ভাগ করে যা পেলাম, তাতো কোনও কাজে আসছে না। আস্তে আস্তে খরচ হয়ে যাচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও পাওয়া গেছে। লতিফ মাতবর নিজেকে ভুক্তভোগী মনে করলেও নিজেকে সুফলভোগী মনে করেন রেস্টুরেন্টকর্মী আব্দুস সোবহান। তিনি জানান, তাঁর নানার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হিসেবে অধিগ্রহণ হওয়া সম্পত্তির টাকার ভাগ তিনি পেয়েছেন। ইসলামী আইনে এমনিতেই পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এই অধিগ্রহণের ফলেই তিনি তাঁর হক বুঝে পেয়েছেন।

কেউ কেউ বললেন, সরকার ব্রীজের প্রয়োজনে জমি নিলো। আমরাও দিলাম। কিন্তু ব্রীজের মুখের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার করে এলাকা জুড়ে জমি অধিগ্রহণের দরকার পড়লো কেন বুঝলাম না। শুনছি সরকার আরও জমি অধিগ্রহণ করবে, জানি না, ঢাকা শহরকি এদিকেই বাড়বে নাকি। হলেতো ভালোই হয়। তবে অধিগ্রহণ করা জমিতে বনায়নের ফলেও খুশি তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *