ইউনূসের নোবেল পুরস্কারের নেপথ্য কাহিনী : শেখ হাসিনার সাথে দ্বন্ধ

বাংলার দর্পন ডটকম :

১৯৯৮ সাল, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে একটিই মোবাইল ফোন কোম্পানি সিটিসেল। আর এই সিটিসেলের মালিক বিএনপি নেতা, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান। একেকটা মোবাইলের দাম এক লক্ষ টাকা`র উপরে!

শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিলেন মোবাইলে ফোনকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ লভ্য করবেন। দেশি বিদেশী অনেক কোম্পানিই আগ্রহ প্রকাশ করলো। এদের মধ্যে একজন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বললেন, গ্রামীণ ফোন নামের যে কোম্পানি তিনি গঠন করবেন এর লভ্যাংশ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিটি সদস্য গ্রামের মহিলারাও পাবেন। নরওয়ের একটি বিদেশী কোম্পানিও সাথে থাকবে। গ্রামীণ মহিলারা লভ্যাংশ পাবেন এই আশায় ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ফোনের অনুমতি দিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

ড. ইউনূস শেখ হাসিনাকে জানান যেহেতু গ্রামীণ ফোন বিদেশী অর্থায়ন হবে, সুতরাং এখানে দুইশ কোটি টাকার উপর কমিশনও পাওয়া যাবে। এই দুইশ কোটি টাকা ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনাকে বিদেশী কোনো ব্যাংক একাউন্ট করে জমা দেয়ার প্রস্তাবও দেন ড.ইউনুস। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি চা খেয়েছেন বিনিময়ে আরেকটি চা খাইয়ে দিয়েন। আমি চাই লভ্যাংশ পেয়ে গ্রামের মহিলাদের উন্নতি হোক। এছাড়া ড. ইউনুসকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দও করতেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প তুলে ধরে বিশ্বের কাছে ক্ষুদ্রঋণকে পরিচিতও করেছেন শেখ হাসিনা।

ইউনূস শেখ হাসিনাকে বলেন, যেহেতু বিদেশী বিনিয়োগ ব্যাংক লোনের মাধ্যমে আসবে সুতরাং কমিশনের টাকা কেউনা কেউ নিয়ে নিবে। তিনি প্রস্তাব করেন, এই টাকা`টা ইউনুস নিজেই নিয়ে নিবেন। এই টাকা দিয়ে তিনি শেখ হাসিনার জন্য “শান্তিতে নোবেল পুরস্কার” এর জন্য লবিং করবেন। কারণ, তখন কোনো রক্তক্ষয় ছাড়া শেখ হাসিনার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সারা বিশ্বে বেশ প্রশংসিত এবং আলোচনার শীর্ষে ছিলো। এছাড়া গ্রামীনফোনে টাকা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান টেলিনর নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইসব কথা বলে ওই দুইশ কোটি টাকা ড. ইউনুস নিজেই নিয়ে নিলেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য লবিংও করলেন। তবে তা নিজের জন্য, শেখ হাসিনার জন্য নয়।

উপরোক্ত বিষয়গুলোতে সত্য এর প্রমাণ ড.ইউনূসের “শান্তিতে” নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তি। ড.ইউনুস কাজ করেছেন ক্ষুদ্রঋণ অর্থাৎ অর্থনীতি নিয়ে। কিন্তু তিনি নোবেল পুরস্কার পেলেন শান্তিতে, অর্থনীতিতে নয়। কারণ, তিনি লবিং করেছিলেন শান্তি পুরস্কারের জন্য।

আরেকটি লক্ষণীয় বিষয়, গ্রামীণ ফোনের পুরাতন লোগো ছিল গ্রামের একজন মহিলা কানে ফোন নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু ড. ইউনুস নোবেল পুরস্কার পাওয়ার এক-সপ্তাহ আগে ওই লোগো পরিবর্তন করে নরওয়ের টেলিনর কোম্পানির নতুন লোগো (বর্তমান লোগো) হয়ে গেলো। কারণ টেলিনর কোম্পানির শর্তই ছিল গ্রামীণ মহিলাদের শেয়ার টুকুও টেলিনর কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে হবে। শুধু কিছু শেয়ার নিজের নাম রেখে দিলেন ড. ইউনুস। শর্ত পূরণ করায় টেলিনর কোম্পানির মাধ্যমে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন ড. ইউনুস। যার বিনিময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের লক্ষ লক্ষ মহিলা সদস্য গ্রামীণ ফোনের মালিকানা ও লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *