বাংলার দর্পন ডটকম >>>
পাসপোর্ট তৈরিতে ভেরিফিকেশনের সময় শতকরা ৭৫ দশমিক ৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ নেয় এসবি পুলিশ(স্পেশাল ব্রাঞ্চ)। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় এ তথ্য ওঠে এসেছে।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবির মিলনায়তনে ‘পাসপোর্ট সেবায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষক শাহনূর রহমান গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
গবেষণার ফলাফলে টিআইবি জানায়, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ হিসেবে গড়ে একজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ৭৯৭ টাকা আদায় করে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের তুলনায় দুর্নীতি কিছুটা কমেছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এ গবেষণা কার্যক্রম চালায় টিআইবি। প্রতিটি বিভাগে জেলা পর্যায়ে মোট ১ হাজার ৪৫৩ জন জরিপে অংশ নেন।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই জরিপে অংশ নেয়া সেবাগ্রহীতাদের ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। আর পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ দেয়ার পরিমাণ ২ হাজার ২২১ টাকা।
জরিপে দেখা গেছে, পাসপোর্ট অফিস থেকে দেয়া স্লিপে উল্লেখ করা নির্ধারিত সময়ে অনেকেই পাসপোর্ট পাচ্ছেন না।
২৭ শতাংশ গ্রাহক বলেছেন, তাদের ১২ দিন বেশি সময় লেগেছ। আর সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ পাসপোর্ট করার সময় দালাল বা অন্যান্যের সাহায্য নিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ দালালের সহযোগিতা নিয়েছ। এই সহযোগিতা নেয়ার হার সবচেয়ে বেশি সিলেটে। এই সংখ্যা ৬০ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম রাজশাহীতে, ২০ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, সাবেক চেয়ারপারসন এম হাফিজ উদ্দিন খান প্রমুখ।