Main Menu

পদ্মায় পানি কমছে : ৪১ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি

 

বাংলার দর্পন ডটকম : গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর অবশেষে কমতে শুরু করেছে নদীর পানি।

রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পদ্মার পানি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জানায়-এবারের বন্যায় রাজবাড়ীতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার ৮৪৫টি পরিবারের ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৩ জন মানুষ । বন্যা কবলিত পরিবারগুলোর আশ্রয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ খোলা হয়েছে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিও মো: ইউসুফ উদ্দিন খান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এমনো দিন ছিল ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি দৌলতদিয়া পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। সর্বশেষ পদ্মার পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

শনিবার সন্ধ্য ৬টার সময় পানি মেপে দেখা যায় ৩ সেন্টিমিটার এবং রোববার সকাল ৬ টায় ৮ সেন্টিমিটার পানি কমে গিয়েছে। পদ্মার পানি এখন ১০৬ থেকে কমে ৯৮ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার জানান, যেহেতু পানি কমতে শুরু করেছে সেহেতু আশা করছি এখন থেকে পানি আরো কমতে থাকবে। তবে এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে আশা করছি আর পানি বাড়বেনা।

এদিকে নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেনিাটমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে শুক্রবার বন্যার পানি রেল লাইনে উঠে যায়। যার কারণে গোয়ালন্দ বাজার রেল স্টেশন থেকে গোয়ালন্দ ঘাট রেল স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ। পদ্মার পানি বিপৎসীমার উপরে উঠায় স্রোতের গতি তীব্র হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের লঞ্চ ও ফেরি চলাচল। এতে উভয় পাশে নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে শতশত যানবাহন। চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

অন্যদিকে হুমকির মুখে রয়েছে দৌলতদিয়ার ৪টি ফেরিঘাটই। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যায় রাজবাড়ীর ৪ টি উপজেলা গোয়ালন্দ, পাংশা, কালুখালী ও সদরে প্রায় ৪১ হাজার পরিবারের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৮টি সরকারি প্রাথমিক ও ৮টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩ হাজার ৪২৪ হেক্টর ফসলী জমি। ভেসে গেছে ৫০টির মতো মাছের পুকুর।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মো: শওকত আলী জানান, এবারের বন্যায় রাজবাড়ীর ৪টি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভার ২০৯টি গ্রামের ৪০ হাজার ৮৪৫টি পরিবারের ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার বন্যা কবলিতদের মাঝে ৩৮৩.৭৪০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এখনো আমাদের কাছে ১১৬.২৬০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জমা রয়েছে। যতদিন বন্যার পানি থাকবে ততদিন পর্যন্ত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কাজ চলবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *