Main Menu

মায়ের অনৈতিক ভিডিও উদ্ধার করতে গিয়ে স্কুল ছাত্র খুন

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্কুল ছাত্র রিয়াদ খান (১৭) হত্যার আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যার কাজে ব্যবহৃত গাছি দা ও রক্ত মাখা জামা কাপড় হত্যাকারীর কাছ থেকে উদ্ধার করেছেন।

এমনটি দাবী করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং করেছেন কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। থানা ক্যাম্পাসে
প্রেস ব্রিফিং করেন কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমিনুল
ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওসি মঈনুদ্দীন, ওসি (তদন্ত) ইমরান আলম, সেকেন্ড অফিসার এস আই আবদুল মান্নান। প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের জানানো হয় মঙ্গলবার রাতে স্কুল ছাত্র রিয়াদ খান (১৭)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে
উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ঝিনু মিয়ার বাগান বাড়ির পাশেই কপোতাক্ষ নদে ফেলে দেয়া হয়েছিল।

বুধবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। বিকালে নিহত স্কুল ছাত্র রিয়াদের পিতা সলেমান আমিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। বুধবার রাতেই সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকারীকে চিহিৃত করে বাগডাঙ্গা গ্রামের বাসা থেকে তাকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকারীর নাম মিলন কুমার দাস (২০)। সে ওই গ্রামের মৃত মুকুল কুমার দাসের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর সে হত্যার কথা অপকটে স্বীকার করে হত্যা সময়ের লোম হর্ষক বর্ণনা দেয়। সে একাই এ হত্যার ঘটনা ঘটায়।

হত্যাকারী মিলন দাস স্বীকার করেছেন, নিহত রিয়াদ খান মিলন দাসের মায়ের অনৈতিক কাজের ভিডিও ধারণ করে। সে ভিডিও দেখিয়ে মাঝে মধ্যেই মিলন দাসকে অপমান করতো নিহত রিয়াদ খান। মিলন দাসের মা রাস্তার কাজের শ্রমিক। অনৈতিক কাজের ভিডিওটি রিয়াদ খানের মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেয়ার কথা বললেও রিয়াদ খান তা করেনি।

সে কারণে মিলন দাসের মায়ের অনৈতিক ভিডিও উদ্ধার করতে রিয়াদ খানকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং হত্যা করে মিলন দাস। হত্যার রাতে রিয়াদকে ডেকে ঘটনাস্থলে নিয়ে মিলন দাস প্রচুর পরিমানে গাঁজা সেবন করায়। পরে ড্যান্ডরেট নামক আঠা সেবন করিয়ে দূর্বল করে রিয়াদ খানকে।

পরে গাছি দা দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে কপোতাক্ষ নদের পানিতে লাশ
ফেলে চলে আসে হত্যাকারী মিলন দাস। প্রেস ব্রিফিং-এ বলা হয়, বৃহস্পতিবার হত্যাকারী
মিলন দাস এই হত্যার কথা স্বাকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, এত অল্প
সময়ে এবং আরো আলামত উদ্ধারের স্বার্থে এর থেকে বিস্তারিত কিছু আর জানানো
সম্ভাব হচ্ছে না। পরে সব কিছু জানানো হবে।

উল্লেখ্য গত বুধবার সকালে উপজেলার
বাগডাঙ্গা গ্রামের সলেমান আমিনের ছেলে বাগডাঙ্গা-বলাবাড়িয়া মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিয়াদ খান (১৭)-এর জবাই ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ক্ষত-
বিক্ষত করা লাশ বাগডাঙ্গা ঝিনু মিয়ার বাগান বাড়ীর পাশে কপোতাক্ষ নদ থেকে পুলিশ
করে।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *