Main Menu

লক্ষ্মীপুর সদর ইউপি নির্বাচন :বিদ্রোহীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় নৌকার প্রার্থীরা

চন্দ্রগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ২৬ ডিসেম্বর তারিখে। এরমধ্যে ভবানীগঞ্জ, হাজিরপাড়া ও উত্তরজয়পুর এই ৩টিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে সবকটিতে নৌকার প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক বিদ্রোহীসহ ৬৪জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

গত ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে ওঠেছে। এদিকে গত বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে বিদ্রোহী ২৭ প্রার্থীকে বহিস্কার করা হয়। কিন্তু সাংগঠনিক এই ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হবে বলে মনে করছেন না তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। বিদ্রোহী প্রার্থীরা সবাই নিজেদের বলয়ের লোকজন নিয়ে গণসংযোগসহ প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যার কারণে, চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর সদরের ইউনিয়ন পরিষদের এই নির্বাচনে বিদ্রোহীদের নিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা। বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচনে প্রার্থী না দিলেও আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন, এমন কথা বলা যাচ্ছে না।

আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দল থেকে মনোনয়ন পেয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। গত ৯ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল উল আলম হানিফের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দেওয়া হয়। তবুও কোনো ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর পাওয়া যায়নি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সদরের ১৫টি ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুল খালেক বাদল, বিদ্রোহী হিসেবে শক্ত অবস্থানে মাঠে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি, মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া ও আব্দুল হালিম মাষ্টারসহ ১১জন। টুমচরে আওয়ামীলীগ প্রার্থী নুরুল আমিন লোলা, সেখানে বিদ্রোহী হিসেবে ভোট করছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান। পার্বতীনগরে আওয়ামীলীগ প্রার্থী সালাহউদ্দিন, বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে আছেন।

শাকচরে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মাহফুজ মাষ্টার, মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। উত্তর হামছাদীতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী এমরান হোসেন নান্নু, বিদ্রোহী ভোট করছেন, নজরুল ইসলাম। চররমনীমোহনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইউসুফ ছৈয়াল, সেখানে স্বতন্ত্রসহ রয়েছেন হাতপাখার প্রার্থী।
বশিকপুরে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আবুল কাশেম জেহাদী, সেখানে শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন মাহফুজুর রহমান খান।

দত্তপাড়ায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী কামাল উদ্দিন, সেখানে যুবলীগের আমিরুল ইসলাম আজাদসহ ৫জন স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। উত্তয়জয়পুরে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মিজানুর রহমান, সেখানে বিদ্রোহী না থাকলেও হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বাক্বীসহ ৭জন।

চন্দ্রগঞ্জে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আইনুল আহমেদ তানভীর, বিদ্রোহী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, স্বতন্ত্র ভোট করছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ হাসান ও ইসলামী আন্দোলন দল থেকে প্রার্থী রয়েছেন মাওলানা শাহাদাৎ হোসেন।

হাজিরপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী নুরুল মোরছালিন মাছরুর, এখানে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সামছুল আলম বাবুল পাটোয়ারী, চরশাহীতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম রাজু, শক্ত অবস্থানে থেকে বিদ্রোহী ভোট করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান গোলজার মোহাম্মদ। দিঘলীতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান, বিদ্রোহী ভোট করছেন সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ও হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফ হোসেন খান।

কুশাখালীতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থেকে বিদ্রোহী ভোট করছেন ইউনিয়ন যুবলীগের মো. জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহমান, আব্দুল করিম।

তবে এই ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন মানিক স্বতন্ত্র ভোট করছেন এবং হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ ১০জন নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন।

মান্দারীতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সহসভাপতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম, শক্ত অবস্থানে বিদ্রোহী ভোট করছেন মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামীলীগ নেতা সোহরাব হোসেন রুবেল পাটোয়ারী। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্রসহ ৬জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় নৌকার মনোনীত প্রার্থীরা রয়েছেন বিপাকে। সবারই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিদ্রোহী ঠেকানো নিয়ে। অন্যদিকে প্রশাসনের কাছে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটাই দাবী ভোট যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ হয়।

কারণ, প্রত্যেকটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী হিসেবে যারা রয়েছেন তারা বেশিরভাগই আওয়ামী লীগেরই লোকজন। স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন- নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হলে অধিকাংশ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হবে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাউকে কাউকে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা তলে তলে সমর্থন দিচ্ছেন। সূত্রে জানা যায়, পর্দার অন্তরালে থাকা প্রভাবশালী এসব নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হবে। এতে নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষ-সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ভোটাররা।

এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না।

বুধবার জেলার পোদ্দার বাজার পুলিশ ক্যাম্পের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভায় এমনই বার্তা দেন জেলা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

এদিকে বিদ্রোহীদের বহিস্কার আদেশে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কীনা মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কু বলেন, নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে পুরনো একটি রাজনৈতিক দল। এখানে অতীতে অনেক নেতা দল থেকে বেরিয়ে গেছেন, কিন্তু দলের কোনো ক্ষতি হয়নি।

বহিস্কার আদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদন না হলে এই আদেশ কতটুকু আইনসিদ্ধ এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামীলীগের এই নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতার সাথে যোগাযোগ করেই তাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছে। সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বহিস্কার করার জন্য তাদের জেলা উপজেলার নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারা যদি এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সেটি কার্যকর হবে কীনা অপর আরেকটি প্রশ্নের জবাবে গোলাম ফারুক পিঙ্কু বলেন, তাদেরকে দুইদিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তারা এই সময়ের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন না করলে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *