শহীদ হয়েছেন র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান অাজাদ

 

ঢাকা : সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে গুরুতর আহত হয়ে ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান (ডিরেক্টর-ইন্টেলিজেন্স) লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়।

(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ রাত ১২টা ৫ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। আজাদের মৃতদেহ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ তার জানাজা ও দাফনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। মৃত্যুর সময় আজাদের পাশে ছিলেন ব্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য, কোর্সমেট ও বন্ধুবান্ধবরা।

উল্লেখ্য, কর্নেল আজাদ তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসন্তানকে রেখে গেছেন। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সদালাপী ও সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত কর্নেল আজাদ বন্ধু সহকর্মী ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মী, বিশেষ করে অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদকদের অত্যন্ত আপনজন ছিলেন। যে কোনো অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সহায়তা চাইলে তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। এ কারণে গণমাধ্যমকর্মীরা তার জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করে আসছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২৫ মার্চ সিলেটের শিববাড়ীর আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে জঙ্গিদের ফেলে রাখা বোমার বিস্ফোরণে লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরিত বোমার একটি স্পিন্টার লে. কর্নেল আজাদের এক চোখ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। ওই দিন রাতেই হেলিকপ্টারে তাকে সিলেট থেকে ঢাকার সিএমএইচে আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৬ মার্চ রাত ৮টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরের প্যারাগন মেডিকেল সেন্টারের নিউরো বিশেষজ্ঞ ডা. ম্যাথিউর নেতৃত্বে একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফেরত এনে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মনকষা গ্রামে লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদের বাড়ি। ৩৪তম বিএমএ লং কোর্সে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন কর্মকর্তা। ২০০৫ সালে তিনি সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে প্যারাট্রুপারে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্যারা কমান্ডো হিসেবে উত্তীর্ণ হন। ২০১১ সালের দিকে মেজর আজাদ র্যাবের গোয়েন্দা শাখার উপপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তিনি লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি নিয়ে গোয়েন্দা শাখার পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও হিযবুত তাহরিরের সদস্যদের গ্রেফতারের ব্যাপারে লে. কর্নেল আজাদের অবদান রয়েছে।

জঙ্গিবাদ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকার জন্য বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) এবং পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পদক) পুরস্কারে ভূষিত হন লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *