নিয়াজ মোহাম্মদ :
বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘ জিরো টলারেন্স ‘ ও মাদক ব্যাবসায়ীদের আত্মসমর্পণ এর মাধ্যমে সুস্থ সুন্দর জীবনে ফেরার ঘটনা দেখে বরিশালের একসময়ের মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি তানিয়া-মিঠুও ফিরতে চায় সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে।
তানিয়া, মিঠু বরিশালের চরমোনাই ট্রলারঘাট ও পলাশপুরের এক অংশ মাদকের সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছিল। প্রায় একবছর যাবৎ তারা সুস্থ জীবনে ফিরতে সকল ধরণের মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বাদ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেদককে।
তারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে গিয়েও বহুবার বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ও একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দ্বারা হয়রানি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন ‘ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তানিয়ার মা কহিনুর বেগম এর ঘরখানা জোরপূর্বক অবৈধভাবে তালাবদ্ধ করে তার পাচদিন পর আবার মানববন্ধন করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয় ।
এসময় তানিয়া, মিঠু ও তানিয়ার বৃদ্ধ নিরপরাধ মা কহিনুর বেগমকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল ঘর তালাবদ্ধ করার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্থানীয় কয়েকজনের চাপে এ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। অথচ, সুস্থ জীবনে ফিরতে তাদের কোন সহায়তার ঘটনার কথা বলতে পারেননি কাউন্সিলর জামাল।
এদিকে একাধিক দালাল প্রতারকের ধর্না ধরে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা খোয়া দিয়ে হতাশ এ দম্পতি।
স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যে সব শর্তপূরণ করতে আগ্রহী সেসব হল, এই ঘৃন্য পেশা ত্যাগ করে সমাজে সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে বসবাসের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে মাদক সংক্রান্ত কোনো অপরাধে জড়িত হবে না। সমাজে ফিরে গিয়ে তাদের এলাকা মাদকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিশেষ ভুমিকা পালন করবে।
যে সব লোক মাদক ব্যবসায়ে এখনো সক্রিয় রয়েছে তাদের তথ্য পুলিশকে সরবরাহ করবে। আত্মসমর্পণের পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে যে সকল মামলা রুজু হয়েছে বা আদালতে বিচারাধীন আছে এসব মামলাগুলি তারা নিজ দায়িত্বে আইনগতভাবে মোকাবেলা করবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল হক এ বিষয়ে বলেন ‘ সরকার মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যেমন শক্ত অবস্থানে রয়েছে, ঠিক তেমনি এদের সুস্থ জীবনে ফিরতেও প্রচন্ড আন্তরিক। সেক্ষেত্রে তাদের কিছু নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা মানতে হবে। এছাড়া আর কোন সমস্যা নেই।
এছাড়াও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্যারের দিকনির্দেশনায় আমরা যেভাবে কাজ করছি তাতে বরিশালে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে।বাকিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, মামলা হচ্ছে। তানিয়া-মিঠু দম্পতি আমাদের কাছে এলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।