করোনায় কোরবানি | বাংলারদর্পণ

ঈদ উল আযহা বা ঈদ উল আজহা বা ঈদ উল আধহা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি। চলতি কথনে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। ঈদ উল আজাহা অর্থ হলো ‘ত্যাগের উৎসব’। এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল ত্যাগ করা।

প্রকৃতির নিয়মেই বছর ঘুরে আবারো এসেছে সেই ত্যাগের উৎসব ঈদুল আজাহা। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। করোনাভাইরাসের পাদুর্ভাবে সৌদী আরবসহ তামাম দুনিয়ার মুসলমানরা ঈদুল আজাহা উদযাপন করেবে ভিন্নভাবে। বিগত হাজার বছরেও হয়তো মুসলমানদের ঘরে বসে এবছরের মতো ঈদ উদযাপন করতে হয়নি। লকডাউন, কেয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, মৃত্যু, নতুন সংক্রশন ইত্যাদি খবরে কেটেবে ঈদের দিন।

অন্য সকল বছরের মতো এবারও ঈদ আসলেও কিন্তু আসেনি আনন্দ। করোনা ভাইরাসের জন্য থমকে আছে গোটা পৃথিবী। গোটা বিশ্ব করোনার কড়াল গ্রাসে নিমজ্জিত। এ ভাইরাসের জন্য পৃথিবীর বড় অসুখ করেছে, আতঙ্কে দিন পার করছে পৃথিবীর মানুষ। ভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রতিটি দিনই এই অদৃশ্য শত্রুর ছোবলে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কবে মুক্তি পাবো এই অদৃশ্য শত্রুর হাত থেকে, শেষ কোথায় এই অদৃশ্য শত্রুর জানা নেই কারোই। তবু যতটা ইতিবাচক হয়ে বাঁচা যায়! সময়ের নিয়মে ঈদ এলেও আমাদের থাকতে হবে আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন হয়ে।

এই অদৃশ্য শত্রুর সংক্রমণ এড়াতে সরকার লগ ডাউন দিয়ে গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ঈদুল আজাহা উদযাপন করবে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমান। করোনা ক্রান্তিকালের এবারের ঈদে পরিবারের সাথে কাটানো হবে না সময়, করা হবে না আনন্দ, পরিবার পরিজনের থেকে অনেকটা দূরে কাটাতে হবে আনন্দের দিনটি। পরিচিত পৃথিবীর বদলে যাওয়া অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা সকলের।

এই অদৃশ্য শত্রুটি (করোনা) সব বদলে দিয়েছে।

ঈদের আনন্দ-উৎসবতো দূরে থাক কোনো রকম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। করোনাকালে নানামুখী অনিশ্চয়তা-সংশয়, দুঃখ-কষ্ট, বেদনা সবকিছু মিলে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।

করোনায় অনেকে হারিয়েছে প্রিয়জন, আবার দূর থেকে অনেকে প্রিজনদের জন্য লড়ছে। আমাদের বাঁচাতে ঘরে অবরুদ্ধ করা হয়েছে এমনকি কারফিউও দেওয়া হয়েছে ঈদের দিনেও। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতে তাই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে দূরে থেকেও কিছুটা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো ভার্চ্যুয়ালে। আপনজন, আন্তীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে স্বশরীরে দেখা না করেও মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবো। সম্পূর্ণ আনন্দটা ভাগাভাগি না করলেও কিছুটা উপভোগ করতে পারবো। তবে প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার হতাশাটা কমবে না।

হয়তো বিধি লঙ্ঘন করে পরিবারের সাথে ঈদটা কাটানো যাবে, সচেতনতার অভাবে যেকোনো সময়েই বড় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়-স্বজনেরাও যেন সুস্থ থাকে সেই চিন্তা থেকে অনেকেই গ্রামের বাড়ি যাবে না।

আনন্দহীন, সাদহীন, রংহীন ও প্রিয়জনহীন এ যেন অন্য রকম এক ঈদ।

এতো কিছুর পরেও আশাবাদী একদিন করোনা জয় করে মৃত্যুর মিছিল থেমে যাবে। পৃথিবী চলবে তার নিজ গতিতে। ঘর বন্ধী মানুষ করোনার হাতকড়া থেকে ফিরবে কর্মস্থলে। সেদিন সকলের মাঝে আনন্দের কুমতি থাকবে না। সেই আনন্দের দিন দেখা হবে সকল প্রিয়জনের সঙ্গে। করোনা মুক্ত পৃথিবীতে মন খুলে নিবো নিঃশ্বাস। তারই অপেক্ষা নিয়ে সবাইকে ঈদ মোবারক।

লেখকঃ এম.আজমানুর রহমান(গণমাধ্যম কর্মী )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *