প্রতিবেদকঃ
খলনায় মসজিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করা ও পুলিশ কর্তৃক একজনকে গ্রেফতারকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুইজন নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার পর এলাকার কয়েকটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীদের একত্রিত করে হামলাকারীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার পর খুলনা মহানগর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলায় নিহতরা হলেন-নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম শেখ (৬০) ও গোলাম রসুল শেখ (৩০)। নজরুলের বুকে তিনটি ও গোলাম রসুলের বুকে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মশিয়ালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন-সাইফুল, আফসার, শামিম, রবি, খলিল, রানাসহ ৯-১০ জন। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মশিয়ালী এলাকার বাসিন্দা হাসান আলী মাস্টারের ছেলে জাকারিয়া (খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক), জাফরিন (খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি) ও মিল্টনের সঙ্গে স্থানীয়দের মশিয়ালী আলিয়া মাদরাসা মসজিদের কমিটির বিষয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
এলাকাবাসী চায় না মসজিদের কমিটিতে তারা অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তারা জোর করে হলেও কমিটিতে স্থান পেতে মরিয়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে খানজাহান আলী থানা পুলিশ জাকারিয়া গ্রুপের একজনকে গ্রেফতার করে। এতে জাকারিয়া-জাফরিন ও মিল্টন মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা রাত সাড়ে ৮টার দিকে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তর্কবিতর্কে লিপ্ত হয়।
একপর্যায়ে জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন গ্রুপের লোকেরা গ্রামবাসীর ওপর গুলিবর্ষণ করতে শুরু করে। গুলিতে নজরুল ও গোলাম রসুল ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে তাদেরকে ফুলতলা উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। আহতদেরকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাংলারদর্পন