মোঃ আফজাল হােসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়ন ভিজিডি-র চাউল বিতরণে অনিয়মের অভিযােগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত হত দরিদ্ররা ভিজিডির তালিকা থেকে বঞ্চিত হলেন।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ইউনিয়ন বাসীর পক্ষে মৃত আব্দুর রহিম সরকারের পুত্র মাে. রেজাউল ইসলামের লিখিত অভিযোগ জানা যায়, গত ০৫/০৩/২০১৭ ইং তারিখ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৪৬০টি কার্ডের ৯টি ওয়ার্ডের ভিজিডির কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মাঝে ভিজিডির চাউল বিতরণ করা হয়। ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজে লিপ্ত থাকা একই ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে তাদরকে ভিজিডির কার্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার ১০টাকা কেজি রেশন কার্ড পাওয়ার পরও কিছু কিছু ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ভিজিডির কার্ড দেওয়া হয়েছে। যেমন, গােপালপুর মৌজার মৃত চেতা দাসের পুত্র ভােটনকে ভিজিডি-র কার্ড দেওয়া হয়। পূর্ব জাফর পুর গ্রামের কুদ্দুস পূর্ব ভিজিডি-র কার্ড পেয়ে চাউল তুলে খাচ্ছিলেন। তাকে আবারও ভিজিডির কার্ড দেওয়া হয়েছে। শিবনগর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড ভিজিডির কার্ড যাদেরকে দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অনেক স্বাবলম্বী।
আবার অনেক দিন মজুর হলেও তাদের নাম ভিজিডির তালিকায় রাখা হয়নি। একই বাড়িতে ভিজিডির ৩টি কার্ড দেওয়া হয়েছে। হত দরিদ্রদের প্রকৃত তালিকা তৈরি করে ভিজিডির কার্ড বিতরণ করা হয়নি। এতে অনেক বঞ্চিত হয়েছে। শিবনগর ইউপির ঘাটপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আফাতুন (৫৫), ঘাটপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আমেনা (৬০), ফকির পাড়া গ্রামের আব্দুল বারির স্ত্রী আছিয়া (৫০) তারা জানান, চেয়ারম্যানের কাছে ভিজিডির একটি কার্ড চায়া চায়া মুই হয়রান হইছু বা, তাও মােকে একটা কার্ড দেয়নি। টাকা ছাড়া বা অরা বলে কার্ড দিবে না।
অপরদিকে শিবনগর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মােঃ মাহবুব আলম ধুলু জানান, ইউনিয়ন ভিজিডির কার্ড বিতরণে ব্যপক অনিয়ম হয়েছে। ১০টাকা কজির চাউলের কার্ড যারা পেয়েছে তারা ভিজিডির কার্ডও পেয়ে চাউল তুলে খাচ্ছে। এমনকি ৪০ দিনের কর্মসূচির সাথে যারা জড়িত তাদের মধ্যেও অনেক ভিজিডির কার্ড পেয়েছে। আমি চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে অবগত করছি। কি তিনি কােন কথা কর্ণপাত করেন না।
এদিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ ফাহমিদা ইসলামের সাথে গত ৬ই মার্চ তার মোবাইল ফোন যোগাযাগ করা হলে তিনি ফােন ধরেন নি। এমনকি তার অফিস গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অফিস মারফত জানা যায়, তিনি সপ্তাহ দুই দিন ফুলবাড়ী অফিস করেন। বাকি ৫দিন পার্বতীপুর অফিস করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মাঠ পর্যায়ে ভিজিডির তালিকা তার অফিস প্রদান করলে তিনি সঠিকভাবে তদারক করেন না।
এ বিষয়ে ৮ই মার্চ এলাকাবাসীর পক্ষে রেজাউল ইসলাম বাদি হয়ে উপজলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ভিজিডি চাউল বিতরণ অনিয়মের একটি লিখিত অভিযাগ করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এহতেশাম রেজার সাথে যােগাযােগ করা হলে তিনি জানান, অভিযােগ পেয়েছি তদন্তÍ স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৫ই মার্চ ভিজিডির চাউল বিতরণের ব্যাপারে শিবনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব এর সাথে কথা বলার জন্য গেলে তিনি ব্যস্ততার দােহাই দিয়ে এড়িয়ে যান।