ত্রুমশই হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মেওয়া ফল | বাংলারদর্পন 

রতি কান্ত রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ত্রুমশই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা থেকে মেওয়া ফল।বাংলায় যাকে অামরা অাতা বলে থাকি।কুড়িগ্রাম জেলায় এই অাতা ফলের গাছ অাজ অার চোখেই পড়ে না।অথচ এক সময় এই অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়ীর সামনে একটি অাতাগাছ থাকতো।বর্ষার শেষে এই গাছে ফুল ফুটতো।তার মনকাড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে।বৈশাখের গরমে ফল পাকতে শুরু করতো।
অাতাফল খুবই সুস্বাধু।এই গাছ উচ্চতায় ৩-৫মিটার হয়ে থাকে।শীতকালে পাতা ঝড়ে যায এবং বসর্ন্তে নতুন পাতা গজায় এবং ফুল ধরে।ফুল এককভাবে বা গুচ্ছাকারে পাতার কক্ষে বা পুরুনো শাখায় ফোটে।গাছে ফল ধরতে ৩-৪ বছর সময় লাগে।ফুল ধরার প্রায় ৫ মাস পরে ফল পাকে।কাঁচা ফল খাওয়া যায না।পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা।এই ফল ভিটামিন সি,খনিজ ও ক্যালসিয়াম সমবৃদ্ধ।ঘোগারকুটি গ্রামের ওয়াজ কুন্নি(৫৫) ও কুটি-চন্দ্র -খানা গ্রামের হরিশ চন্দ্র শীল (৪৬)জানান, অাগে গ্রাম-গঞ্জে  প্রচুর অাতাফল পাওয়া যেত।এখন অার অাগের মত অাতাফল পাওয়া যায না।
অাগে অামরা অাতাফল ধানের গোলায় রেখে পাকাতাম।ফুলবাড়ীর ফল বিত্রুেতা ছাইদুল হক জানান,প্রতি পিচ অাতাফল ১০-৩০ টাকায় বিক্রয় করা হয়।কৃষি অফিসার মাহাবুবুর রশীদ বলেন,কুড়িগ্রাম জেলা মেওয়া চাষের উপযোগী।তাই এখানে ব্যক্তিগতভাবে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যেগ নিলে সফলতা সম্ভব।কোন উদ্যেক্তা অাগ্রহী  হলে কৃষি বিভাগ সবার্থক সহযোগীতা করবে বলে জানান তিনি।
এখন এই অাতাফল কুড়িগ্রাম জেলায় নাই বললেই  চলে।যদিও দুই-এক জায়গায় এর অবস্থান টের পাওয়া যায,তা-ও থাকে অনাদরে ঝোপের অাড়ালে।এ রকম চলতে থাকলে একদিন এমন সময় অাসবে, যখন কুড়িগ্রাম জেলা থেকে হারিয়ে যাবে অাতা নামের ফলটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *