Main Menu

শোল মাছের চাষ করে সফল সাতক্ষীরার ফিরোজা বেগম

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নদীমাতৃক জেলা সাতক্ষীরা। এ জেলায় রয়েছে অসংখ্য নদনদী,খাল, বিল, ডোবা, নালা। সাতক্ষীরায় গত কয়েক বছর আগেও দেখা মিলতো চ্যাং (টাকি), শোল, কৈ, মায়া, পুঁটি, বোয়াল, বেলেসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। তবে দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। বিলুপ্ত প্রজাতির মাছের তালিকায় রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রিয় মাছ ‘শোল’এর নাম।

প্রাকৃতিক নিয়মে পোনা উৎপাদন করে দেশীয় প্রজাতির শোল মাছ চাষ করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীধরকাটি গ্রামের আতিয়ার রহমানের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৪৩)। বর্তমানে তিনি ওই এলাকায় শোল মাছ চাষে মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই শোল মাছের চাষ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সরেজমিনে ফিরোজা বেগমের শোল মাছের খামারে যেয়ে দেখা গেছে, তার ছোট্ট খামারে এলাকার মাছ চাষীরা ভিড় করছেন। কীভাবে শোল মাছ চাষ করবেন সেব্যাপারে পরামর্শ গ্রহণ করছেন তারা। এর মাঝেই ফিরোজা বেগম এই প্রতিনিধিকে জানান, গত কয়েক মাস আগে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন, পুরাতন সাতক্ষীরার সরদার বাড়ির জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি দেশীয় প্রজাতির শোল মাছের চাষ করে সফল হয়েছেন। তখন তিনি স্বামীর সাথে পরামর্শ করে সাতক্ষীরা থেকে ১৭শ’ টাকা দিয়ে দু’টি শোল মাছ ক্রয় করেন। সেই মাছ দু’টি তিনি যত্ন সহকারে বাড়িতে নিয়ে এসে নিজ ভিটায় ৫ কাঠা জমির পুকুরে ছেড়ে দেন। ‘শোল’ মাছ যাতে পুকুর থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে সেজন্য পুকুরের চারপাশে নাইলনের নেট দিয়ে বেড়া দেয়া হয়। ১৫ দিনের মধ্যে মাছ দু’টি সহস্রাধিক রেণু ছাড়ে। এসময় জাকির হোসেনের পরামর্শে ফিরোজা বেগম ও তার স্বামী প্রতিদিন সকালে রেণুর খাদ্য হিসেবে হাঁস বা মুরগির ডিমের অর্ধেক পরিমাণে দিতে থাকেন। বাকি অর্ধেক দিতেন বিকেলে। দু’সপ্তাহ চলার পর তিনি দু’টি তেলাপিয়া মাছ সিদ্ধ এবং ডিম একসাথে মিশিয়ে মাছের রেণুর খাদ্য হিসেবে দেয়া শুরু করেন। একই ভাবে চলে প্রায় দেড়মাস। মাছের বয়স ৩ মাস পার হওয়ার পর প্রতিদিন প্রায় ৫শ’ গ্রাম মাছ সিদ্ধ করে ওই পুকুরে দিতে থাকেন। তিন মাস যেতেই প্রতিটি শোল মাছের আকার হয়েছে প্রায় ৪ ইঞ্চি। মাছের এরূপ বৃদ্ধি বজায় থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে শোল মাছগুলো বাজারজাত করা যাবে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী সকল খরচ বাদ দিয়েও ৫ কাঁঠা জমির পুকুর থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন ফিরোজা বেগম। সংসারে ফিরবে স্বচ্ছলতা।

কালিগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে অনেকেই শোল মাছের চাষ শুরু করেছেন। বাজারে এই মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে কালিগঞ্জ উপজেলার মধ্যে এই প্রথম শোল মাছের চাষ করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছেছেন ফিরোজা বেগম। মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকেও আমরা তাকে উৎসাহ দিচ্ছি। যদি কেউ শোল মাছের চাষ করতে চায় তাহলে অবশ্যই উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর তাকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *