বাংলারদর্পন : বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে নির্মিত রেলওয়ে ওভারপাসের কারণে সৃষ্ট যানজটে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন মাইলের পর মাইল ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়ে একদিকে যেমন যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না মালবাহী গাড়িগুলো।
মহাসড়কের ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম নগরী ও বন্দরে পৌঁছাতে হয়। বন্দরের মালবাহী গাড়িগুলো ও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে যাতায়াতের একমাত্র সংযোগ হচ্ছে ফেনী। এ বিশাল এলাকার মালবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ির চাপ পড়ে মহাসড়কের উপর। যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ফেনী রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হলেও দীর্ঘ ৬ বছর ধরে তা গলার কাঁটা হয়ে ঝুলে আছে।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে জ্যামের কারণে বন্দরমুখী হাজার হাজার মালবাহী কাভার্ডভ্যান, লরি ও ট্রাক ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা পড়ে থাকে। নির্ধারিত সময়ে মালামাল বন্দরে না পৌঁছায় বিদেশে শিপমেন্ট দিতে পারছে না গার্মেন্টসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী পণ্যের মালিকরা।
স্থানীয়রা জানান, রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণে পূর্বের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথাযথ বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেনি। বাইপাস সড়কসহ আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না করেই কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড (পিবিএল)। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুরে ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি কাজের অনুমতি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড(পিবিএল)।
একসাথে কুমিল্লা, ফেনী ও ইলিয়টগঞ্জ ওভারপাস নির্মাণ কাজ শুরু করে তারা। ফেনীর মূল ওভারপাসের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৮৬.৭৯ মিটার। দু‘দিকের ঢালু অংশ মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য ৭৫৫ মিটার। ঢাকার অংশের দৈর্ঘ্য ৩৪৭ মিটার আর চট্টগ্রাম অংশের দৈর্ঘ্য ৪০৮ মিটার। পিবিএল কাজ পাবার পর থেকে নান টালবাহানা শুরু করে। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে কাজ করার পর ফেনী রেলওয়ে ওভারপাসের অগ্রগতি মাত্র ৫০ ভাগ।
এদিকে জনদুর্ভোগ দেখে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পায় মেট্রো গ্রæপের প্রতিষ্ঠান আল আমিন কন্সট্রাকশন। অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে তারাও। এ প্রতিষ্ঠানকে ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাস সময় দিয়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। সময়সীমা পার হয়ে ২০১৮ সালের ৪ মাস অতিবাহিত হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ১০ ভাগ। এভাবে চলতে থাকলে এ বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন কনসালটেন্ট কোম্পানি হিসেবে নিয়োজিত থাকলেও ঠিকাদারের দুর্বলতার কারণে কাজের গতি থমকে গেছে। ফলে এ জনদুর্ভোগ বলে জানান চালক, যাত্রী ও স্থানীয়রা। গত ৬ এপ্রিল ফতেহপুরের রেলওয়ে ওভারপাসের অগ্রগতি দেখতে ফেনী এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মে মাসের শেষ দিকে নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানান। কিন্তু কাজের গতি এমন হলে চলতি বছর তা শেষ হবে না বলে ফেনীর বিশেষজ্ঞ মহল ও সাধারণ জনগণের অভিমত।
এদিকে শুষ্ক মৌসুমে ধুলিঝড় আর বর্ষা মৌসুমে কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলে ওভারপাসের বাইপাস সড়কটিতে। বর্ষায় কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। ফলে জ্যাম হয় নিত্যকার সঙ্গী। নির্মাণ কাজটির কারণে প্রতিদিন ৫/৬ ঘন্টা করে নষ্ট হচ্ছে মহাসড়কে চলাচলকারীদের। দুর্ভোগ নিরসনে আপাতত খানাখন্দে ভরা ফেনী শহরের পুরাতন অ্যাপ্রোচ সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক বিভাগ।
ফেনী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বাইপাস সড়ক নিয়ে আর কোন পরিকল্পনা নেই। তবে শহরে প্রবেশের অ্যাপ্রোচ সড়কটির সংস্কার করা হবে। এতে জনদুর্ভোগ অনেকটা কমবে বলে তার মন্তব্য।