Main Menu

দুই বছরেই ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন ! 

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের বড় মেগাপ্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের উদ্বোধন করা হয় ২০১৬ সালের দুই জুলাই। অথচ উদ্বোধনের দুই বছর না পেরোতেই ১৯২ কিলোমিটার সড়কের বিভন্ন স্থানে বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে বিটুমিন। দেখা গেছে নানা ‘ক্ষত’ ও খানাখন্দ।

সম্প্রতি প্রকল্পটিকে নিয়ে সরেজমিন তদন্তে নামার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে(আইএমইডি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আইএমইডি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন মহাসড়ক পরিদর্শন করবে। এর পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার।

বর্তমানে মহাসড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বেশিরভাগ যানবাহনের চালকরা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ রাখতে গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। বেশ কয়েকটি স্থানে সওজ ইটের জোড়াতালি দিয়েছে।কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় ব্যস্ততম ফোরলেন কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী অংশের কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চালকরা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফোর লেনের কুমিল্লা দাউদকান্দির পদুয়ারবাজার,ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করে যানবাহন চালানো স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ।

এই বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে কয়েক স্থানে সমস্যা হয়েছে। আমি আইএমইডি’কে (পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি। তারা তদন্ত রিপোর্ট দিলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্যদিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৯২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়ক পরবর্তী পাঁচ বছর মৃসণ ও অক্ষত রাখতে ৯৪৪ কোটি টাকার ‘আবদার’ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর(সওজ)।

সওজ সূত্র থেকে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত হওয়া ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন’ পরবর্তী পাঁচ বছর মৃসণ রাখতে একটি প্রকল্পও নেয়া হয়েছে। এর আওতায় এতো বড় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এমন ব্যতিক্রমী প্রকল্প সওজ এই প্রথম নিয়েছে। ‘ চারলেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য পারফারম্যান্স-বেইজড রক্ষণাবেক্ষণ ও পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায়ই এই উদ্যোগ।

এরই মধ্যে প্রকল্পের সারসংক্ষেপটি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠিয়েছে সওজ। পিইসি সভার জন্য সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে পরিকল্পনা কমিশন। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তাবায়ন করা হবে।

২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বছরওয়ারী টাকা ব্যয় করা হবে ফোরলেনটি মসৃণ রাখতে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৬৬ কোটি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১৩ কোটি ৩১ লাখ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১৬ কোটি ৩৩ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩২১ কোটি ৩৫ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, সওজ একটা প্রকল্প-প্রস্তাব আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। পিইসি(প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভার জন্য প্রকল্পটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

প্রকল্প ব্যয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন সড়ককে টেকসই ও নিরাপদ, মসৃণ সড়কে রূপ দেয়া। সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেগা প্রকল্পটি যেন সামনে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই লক্ষে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ঘন মিটার সয়েল আর্দেন সোল্ডার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ২৬ হাজার ৫৬২ ঘন মিটার ওয়ার্নিং কোর্স রুট করা হবে। পাঁচ বছরে ফোরলেন জুড়ে ১১ হাজার ৩৬৬ কিলোমিটার রুটিন মেইনটেন্সের সংস্থান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জুন ২০১৭ সালে এ প্রকল্পের মেয়াদ সমাপ্ত হয়। এরপর থেকে প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। বন্দর নগর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ রক্ষাকারী জাতীয় অর্থনীতির লাইফলাইন এ মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত ভারবাহী পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচল করছে। কয়েকটি স্থানে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছে। কিন্তু মূল প্রকল্পের আওতায় পারফরমেন্স বেজড মেইনটেন্সে এর সংস্থান না থাকায় পৃথক প্রকল্প অথবা রাজস্ব খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে ফোরলেনটি মসৃণ রাখা হবে।

ভারী যানবাহনের কারণে মহাসড়কের সম্ভাব্য রাটিং মেরামত ও স্থানবিশেষে মজবুত করণ, সার্ফেসিং, ওভারলে, পথচারী পারাপারের জন্য ফুটওয়ার ব্রিজ, মিডিয়ান গার্ডপোস্ট, বেরিয়ার-সিগন্যাল পোস্ট ইত্যাদি মেরামতের জন্য রুটিন মেরামত করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসানের সঙ্গে ফোনে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *