Main Menu

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির কোন লাভ নেই: ওবাইদুল কাদের

দর্পন ডেস্কঃ প্রকাশ- ৮ নভেম্বর ১৬।
সোমবার সেতু ভবনে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের জয়ের সম্ভাবনায় বিএনপির উৎফুল্ল হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রোববার রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক, তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না।
তিনি বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।’
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে এ সাক্ষাতে আসেন বার্নিকাট। তবে গণমাধ্যমের আগ্রহ ছিল, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হলে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী হিলারি জয়ী হলে বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বদল হতে পারে—অনেকেই এমন ধারণা করছেন। বিগত মহাজোট সরকার ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। তাকে ওই পদে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি।
বিএনপিও ড. ইউনূসকে সরানোর সমালোচনা করেছিল। তাই অনেকেই মনে করছেন, হিলারি জয়ী হলে বাংলাদেশের প্রতি দেশটির দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে হিলারির সরকার।
তবে এসব ধারণাকে সরাসরিই নাকচ করে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের ও বার্নিকাট। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কোনো পরিবর্তন হবে না। নির্বাচন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে—সেখানে যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে না।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন নিয়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশেও সংসদ নির্বাচনে তেমন পরিবেশ তৈরি হবে।
বিএনপিবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে সে সময় ‘ক্রটিপূর্ণ’ বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদও দিয়েছিল। তবে গত আড়াই বছরে অনেকটাই বদল হয়েছে দেশটির অবস্থান। বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কেরও উন্নতি হয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শক্তিশালী। সম্পর্কের এ মাত্রা আগামী দিনগুলোতে আরো বৃদ্ধি পাবে।’
বার্নিকাটের মতো আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও মনে করেন, মার্কিন নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় যে সরকারই বা যিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন না কেন; বাংলাদেশের সঙ্গে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না।’
২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সময়ও অনেকে ধারণা করেছিলেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ বিষয়ে দেশটির মনোভাব বদলে যাবে। কংগ্রেস সরকার যেভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে, ভারত তা আর করবে না। কিন্তু মোদির সরকার আগের পররাষ্ট্রনীতিই অনুসরণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তন হলেও একই ঘটনা ঘটবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘হিলারি কিংবা ট্রাম্প যেই জয়ী হোক, তাতে বিএনপির লাভ নেই, খুশি হওয়ারও কারণ নেই। অতীতে ভারতের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দলটি এ রকম আনন্দিত হয়েছিল। পরে তাদের আদৌ কোনো লাভ হয়নি। এবারও তাই হবে।’
হিলারির জয়ের সম্ভাবনায় বিএনপির উৎফুল্ল হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ইলেকশনে জিতবেন বা জিতে গেলে, এ রকমই উৎফুল্ল ছিলেন বিএনপি নেতারা। তখনও আমি মন্তব্য করেছিলাম—ইলেকশন হচ্ছে ভারতে, আমরা কেন এত উৎফুল্ল হচ্ছি?’
সেতু ভবনে আরেক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে খুলনা, মাদারীপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে ১৭টি সেতু নির্মাণে পরামর্শক ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সেতু কর্তৃপক্ষ। জাপানি অর্থায়নে মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত হবে কালনা সেতু।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *