Main Menu

আওয়ামীলীগ কি আবার ক্ষমতায় আসবে ? ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও অাত্মবিশ্বাসী ছিল | বাংলারদর্পন 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হবার পর শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের কথাবার্তা আচার আচরণ পাল্টে গেছে। অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতা ধরেই নিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসছে। অহংকারী ভাব তাঁদের কথা বার্তায়, আচরণে। সাধারণ মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার একটা প্রবণতা চারপাশে তাকালেই লক্ষ্য করা যায়। নেতারা কর্মীদের আর আগের মতো পাত্তা দিচ্ছেন না। আওয়ামী লীগ এখন ‘অতি আত্মবিশ্বাসী’। আগামীবার ক্ষমতায় এলে কি করবেন, তা ফিরিস্তি করছেন অনেক মন্ত্রী এমপি। ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক বক্তৃতায় বলেছিলেন ‘আত্মবিশ্বাস ভালো, কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাস ভয়াবহ।’

আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ‘অতি আত্মবিশ্বাসই’ আওয়ামী লীগের ট্রাজেডি। ৭৪-৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন ভাবে, নানা মহল সতর্ক করেছিল। খুনি খন্দকার মোশতাক সম্পর্কে জাতির পিতাকে সতর্ক করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তা পাত্তা দেননি। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে অভ্যুত্থান সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাসই করতে পারেন নি যে এদেশের মানুষ তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারে। এমনকি নিজের অনিরাপদ বাড়ি ছেড়ে তিনি বঙ্গভবনে যেতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

জাতির পিতার এই অতি-আত্মবিশ্বাসের চরম মূল্য দিতে হয়েছিল তাঁকে, আওয়ামী লীগকে এবং গোটা বাঙালিকে জাতিকে।

৯১ এর নির্বাচনেও আমরা দেখলাম, ‘অতি-আত্মবিশ্বাসী’ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে জেতার আগেই নেতারা কে কোন দপ্তর নেবেন, তা নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করলেন। বিএনপির ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিতেই কষ্ট হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ধরেই নিয়েছিল নির্বাচন একটি আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়। অবিশ্বাস্য ভাবে ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

২০০১ সালে সফলভাবে দেশ পরিচালনার পর দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আওয়ামী লীগ। ৯৬, ২০০১ সালের সময়কালে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল, সন্দেহ নেই। তাই, আওয়ামী লীগ ২০০১ এর অক্টোবরের নির্বাচনে হারবে এটা স্বপ্নেও ভাবেনি। এমনকি বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন আওয়ামী লীগের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে, তখনও আওয়ামী লীগের অতি আত্মবিশ্বাসে এতটুকু চিড় ধরেনি। বরং অধিকাংশ নেতাই বলেছেন, বিরোধী দলকে খুশি না করলে নির্বাচনের পর তারা হট্টগোল করবে। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচন আওয়ামী লীগকেই কেবল চমকে দেয়নি, গোটা দেশকেই হতভম্ব করে দিয়েছিল।

এবার আবার আওয়ামী লীগ অতি বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের সব নেতাই মনে করছে বিএনপি আহত, ক্ষত-বিক্ষত। এই দল আর যাই করুক নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। আওয়ামী লীগ গত প্রায় দশ বছরে যে বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছে তাতে তাদের অনেক নেতাই এখন `নাকে সর্ষের তেল দিয়ে’ ঘুমানোর পক্ষপাতী। এই ‘অতি আত্মবিশ্বাস’ আবার কি আওয়ামী লীগকে কোনো বড় বিপর্যয়ে ফেলবে? যারা ঘর পোড়া গরু, তাঁরা সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। আওয়ামী লীগের ত্যাগী, দুর্দিনের কর্মীরা এমন আশঙ্কাতে উদ্বিগ্ন। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জাতির পিতার শিক্ষা হলো জনগণকে বন্ধু ভাবা, জনগণকে সম্মান করা। কিন্তু আওয়ামী লীগেরই অনেকেই এখনই নিজেদের জনগণের প্রভু ভাবতে শুরু করেছেন। এর জন্য আওয়ামী লীগকে হয়তো বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তাই, সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবা হলো সব থেকে বড় ভুল।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *