চট্টগ্রাম ব্যুরো :
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি আরো দশ বছর আগে পেতো ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা, পরবর্তীতে স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশকে অনেকাংশে পিছিয়ে দিয়েছে। এদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে তাদের গাড়ীতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন ছাড়া স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এবং তাদের দোসরা দেশের উন্নয়নে কোন কাজ করেনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে ছিলেন বলে বাংলাদেশের জনগনের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে পেরেছেন। তাঁর আমলে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে অন্য কোন সরকারের আমলে এতো উন্নয়ন হয়নি। শেখ হাসিনার স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো এবং দেশকে উন্নত করা। দেশের একটি মানুষ ও যাতে না খেয়ে থাকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যে নিয়েই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব এবং অর্থের জন্য রাজনীতি করেন না, তিনি তাঁর পিতার মতো দেশ ও জাতিকে ভালবেসে দেশের মানুষের সামগ্রীক উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করেন। ২৬ শে মার্চ ষ্ট্রাষ্ট্র রোড, মাঝিরঘাট ঘাটগুদাম শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন মাঠে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় শ্রমিক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্যে রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন, বিশিষ্ট অর্থনৈতিবিদ ও তরুণ রাজনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান (শান্ত)।
তিনি শ্রমিকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদেরকে জীবিকার তাগিদে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। মহিউদ্দিন চৌধূরী না থাকায় আপনারা নিজেদেরকে অভিভাবকহীন মনে করছেন। আমি আশা করি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও মহিউদ্দিন চৌধূরীর ছেলে ব্যরিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধূরী নওফেল আপনাদের এই শূন্যতা পূরণ করবেন। তিনি বলেন, আমরা তরুন প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করি। ভবিষৎতে দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র ও নিরক্ষতা মুক্ত করতে এবং অর্থনৈতিকভাবে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাব। দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে তিনি আগামী নিবার্চনে দলমত নির্বিশেষে বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
স্বাধীনতা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক আমীর আহাম্মদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আবদুল আহাদ ও চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিকলীগ এর সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহাবুবুল হক চৌধূরী (এটলী), অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিকলীগ নেতা আবুল হোসেন আবু, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ ভোলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলামীন, ৭১ টেলিভিশনের ব্যুরো চীফ ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মানিক বিন্দু লাল, ব্যবসায়ী নেতা বাহারুল আলম বাহার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুরশেদ আলম সুজন বলেন, এক সময় বাংলাদেশে চাউলের কেজি ছিল এক টাকা, মাংসের কেজি ছিল ২/৩ টাকা, কিন্তু দেশের মানুষ ঠিক মতো খেতে পারতো না। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসন আমলে দেশে খাদ্যের অভাব নেই, দ্রব্য মূল্য যাই হোক না কেন দেশের কোন মানুষ না খেয়ে থাকে না। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা পূর্বের চেয়ে অনেক সচ্চল। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে উন্নয়ন ঘটেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ইউরোপের সমান উন্নত হবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশর অর্থনীতি হবে বিশ্বের বৃহত্তর তিনটি অর্থনীতির মধ্যে একটি। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমানে অনেক নতুন নতুন নেতার আর্ভিভাব হয়েছে, না বুঝে ওদের পিছনে হাঁটলে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা শ্লোগান দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বার বার তাঁকে প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাই বলে দাবী জানালে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সরকার যাকে মনোনায়ন দেবে আমরা তার পক্ষে কাজ করব। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি বর্তমান সরকারকে পরবর্তী নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।