Main Menu

আগামীকাল দেশবাসীকে নববর্ষের উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা – বাংলারদর্পন

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিগত বাংলা নববর্ষে দেশবাসীকে রাজধানীর হাতিরঝিলে অ্যাম্ফিথিয়েটার ও মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেন উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার ইংরেজী নববর্ষে দেশবাসীকে উপহার দেবেন যোগাযোগের নতুন মাত্রা ফেনীর মহিপালে দেশের ১ম ছয় লেনের ফ্লাইওভারটি।

 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটায় গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে নামফলক উম্মোচন করে খুলে দেবেন যান চলাচলের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এ মাইলফলকটি। সেই উদ্বোধনী ক্ষনটির জন্য অপেক্ষার আর মাত্র ঘন্টা বাকি। ইতোমধ্যে ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের জন্য সেজেছে রঙিন সাজে। নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মহিপালের এ গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট নির্মিত ফ্লাইওভারটি ঘিরে এ ফেনী-নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলের জনসাধারণের স্বপ্ন এবং সম্ভাবনার প্রাপ্তি বেড়েছে, তেমনি আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে সে ব্যাপারে আশাবাদী সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও। ইতোমধ্যে তার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

 

আগামীকাল ৪ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সংযোগস্থল মহিপালে নির্মিত এ উড়ালসেতুটি চালু হলে মহাসড়কে যানজট কমে যাবার পাশাপাশি ফেনী শহরের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে সেকথা বলছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। এতে করে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, ফেনীর ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলছেন তিনি।

 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০ টায় ফেনী জেলা প্রসাশকের সম্মেলন কক্ষ ও মহিপালের ফ্লাইওভারের কাছ থেকে একযোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে

বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রঙিন করে সাজানো হয়েছে বাহ্যিক সাজসজ্জা। মহিপাল ফ্লাইওভারের রেপ্লিকা জেলা প্রসাশকের সম্মেলন কক্ষে প্রদর্শন করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার অনুষ্ঠান স্থলে থাকবেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সিদ্দিকসহ সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর ফেনীর অনুষ্ঠান স্থলে থাকবেন ফেনী -২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, সেনাবাহিনীর এ প্রকল্পের দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউলসহ সরকারীবেসরকারী কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা।

 

দেশের প্রথম সিক্স লেইন ফ্লাইওভারের নির্মান কাজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্ক অর্গানাইজেশনের আওতায় ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যটলিয়ন। তাদের সহযোগী হিসাবে কাজ করে আবদুল মোমিন লিমিটেড। প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্তদের দিনরাত নিরলস পরিশ্রমে নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস আগেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যায়। গত ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়।

 

এর মধ্য দিয়ে দেশের যোগাযোগের নাভী খ্যাত ফেনী শহরের মহিপাল মোড় নতুন মাত্রায় অভিষিক্ত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের যানজট, দূর্ঘটনা, কর্মঘন্টা নষ্ট, যাত্রী হয়রানীসহ নানা ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে ফেনীসহ দেশবাসীর বড় একটি অংশ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দৃষ্টিনন্দন শিল্পশৈলির সমন্বয় ঘটছে এ প্রকল্পে।

 

২০১৮ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের নির্মান কাজ শেষ হওয়া কথাছিলো। সেনাবাহিনীর দেখভালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এটি নির্মাণ করা হয়। আগামীকাল ৪ জানুয়ারী থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এটি।

 

ফ্লাইওভারের উপরে ৬ লেইন নিচে ৪ লেইন সুবিধাসহ মোট ১০ লেইনে  যানবাহন চলাচল করতে পারবে।  এরমধ্যেই এটি দেখতে লোকজন দলবলে ভিড় করছেন। কেউ ‘মিস’ করতে চান না এই স্বপ্নের ফ্লাইওভার দিয়ে যাত্রার প্রথম অনুভূতি।

 

আগের প্রাক্কলন অনুসারে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিলো ১৫৮ কোটি টাকা। পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। মু্ল ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার প্রস্থ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার, সাভিস রোডের দৈঘ্য ১৩৭০ মিটার প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার, এপ্রোচ রোডের দৈঘ্য ১১৬০ মিটার, সাইড ড্রেনের দৈঘ্য ২২১০ মিটার। ড্রেনের উপর নির্মিত ফুটপাতের দৈঘ্য ২২১০ মিটার। এই ফ্লাইওভারে পিসি গার্ডার ১৩২টি , ষ্টেন ১১ টি, পিলার ২০ টি এবং ফ্লাইওভারটিতে ১১ টি স্পেনে র্যাম্প রয়েছে ২৯০ মিটার।

 

ঢাকা- চট্টগ্রাম মহা সড়কের মহিপালের উত্তর প্রান্তের দেবীপুরের বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের কাছ খেকে ঢাকা থেকে আসা গাড়ীগুলো ফ্লাইওভারে উঠে দক্ষিন প্রান্তের চাড়িপুর স্কুলের কাছে গিয়ে নেমে আবার সমতল মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাবে।

 

যে সকল যানবাহন ঢাকা থেকে এসে ফেনী শহর বা নোয়াখালী সড়কে যাবে তারা উত্তর প্রান্তের পয়েন্টের ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে অপর সাইড রোড দিয়ে যাবে। একইভাবে চট্রগ্রাম থেকে আসা যানবাহনগুলো ঢাকাগামী হলে ফ্লাইওভার দিয়ে যাবে। যারা ফেনী শহর বা নোয়াখালী যাবে তার ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে অপর সাইড রোড দিয়ে যাতায়ত করবে। যাকে লিংক রোড বলা হচ্ছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *