ব্যাংকে কেন আগ্রহ সৌদি যুবরাজের ?

 

বাংলারদর্পন : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭। 

ফিলিস্তিনি ধনকুবের ও আরব ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবিহআল-মাসরিকে ১৬ ডিসেম্বর সৌদি আরবে আটক করা হয়। ব্যবসায়িক কাজে সে সময় দেশটির রাজধানী রিয়াদ সফর করছিলেন তিনি। সৌদি সরকার তাকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে দাবি করলেও তাকে আটকের খবরে জর্ডানে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ দেশটিতে তার বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে এবং এর সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। একই সঙ্গে তাঁর পরিচালিত আরব ব্যাংকে রক্ষিত আছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের সঞ্চয়। তাদের আশঙ্কা সৌদি যুবরাজ হয়তো অন্যান্য তাঁর বন্দীদের মতই মাসরির সম্পদ সৌদি কোষাগারে জমা দিতে বাধ্য করবেন।

অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর মাসরি জানান, তাকে এরকম কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি ভালো আছি। আমি আনন্দিত যে সৌদি আরবে সবাই আমাকে অনেক সম্মান করে’।

সাবাহ আল-মাসরি জর্ডানের একজন বড় ব্যবসায়ী। আবাসন, হোটেল ও ব্যাংকিং খাতে তার বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে তার। আল-মাসরি ২০১২ সালে আরব ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসে জন্মগ্রহণ করেন মাসরি। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের কাছ থেকে কুয়েত উদ্ধারে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের সেনাদের খাবার সরবরাহের ব্যবসা করে তিনি বিশাল সম্পত্তির মালিক হন তিনি।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে অনেক প্রিন্স, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে সৌদি আরব ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠজনেরা।

আরব ব্যাংকের প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এমন আগ্রহ খুবই রহস্যজনক। আরব ব্যাংক এবং আল মাসরির সব ব্যবসার প্রায় ২৩ শতাংশ আসে ইসরায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে। আর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিবাদেও সৌদি আরবের অবস্থান ছিল রহস্যময় এবং ইসরায়েলের স্বার্থের পক্ষে। এই ঘোষণার প্রতিবাদে আয়োজিত ওআইসি সম্মেলনেও দেশটি একজন সাধারণ উপমন্ত্রীকে পাঠিয়েছিলো।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। ইরান আর সৌদি আরবের আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিচ্ছে নতুন নতুন দেশকে। চলতি বছরেই ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ এনে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মিশর আর জিসিসি জোট। সেই অবরোধ কে কেন্দ্র করে সংকট এখনো চলেছে। আর অবরোধের পর একটি সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কায় নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে দেশতি। ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলো যুদ্ধবিমান কিনেছে দেশটি। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আশস্ত করে বলেছেন সেখানে একটি যুদ্ধ শুরু হবার সম্ভাবনা নেই।

তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু হলে সেটি কাতার সশস্ত্র বাহিনীর পাকিস্তানি সদস্যরা সৌদি আরবে নিয়োজিত পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কীভাবে কাজ করবেন? আবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এই সুযোগে হয়তো কাতার এবং জিসিসি দেশগুলোর কাছে আরও কিছু অস্ত্র বিক্রির আয়োজন করতে পারেন।

দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট থেকে অনূদিত

লেখক: বিখ্যাত সাংবাদিক কলামিস্ট এবং দি ইনডিপেন্ডেন্ট এর মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *