মো.আব্দুর রহিম বাবলু,কুমিল্লা প্রতিনিধি :-
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইলস রফিক অর্থ জালিয়াতির মামলায় আগের সাজা ও অর্থন্ডের রায় কার্যকর না হতেই এবার আরেক অর্থ কেলেঙ্কারীর মামলায় অর্থদন্ড ও সাজা প্রাপ্তির খবর প্রকাশ পাওয়ায় এলাকা ছেড়েছেন মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।
বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও এপিপি এডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহম্মেদ ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চলতি বছরের গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার বিজ্ঞ সহকারি দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোসা. শায়লা শারমীন আসামী রফিকুল ইসলামকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ১ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন।
স্থানীয় লোকজন আরো জানান, চেক জালিয়াতির আরেক মামলায় অভিযোগ প্রমানীত হওয়ায় এর আগে গত ২০১৬ সালের ১৩ জুন মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত্য করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং চেকে বর্নিত ১৩ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদানসহ কারাদন্ড ভোগ করলেও তিনি জরিমানা পরিশোধের দায় হতে অব্যাহতি পাবেননা বলে আদেশ দান করে আদালত। এসব সাজা প্রাপ্তির কথা গোপন রেখে বহাল তবিয়তে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন রফিকুল ইসলাম। তবে আকষ্মিকভাবে তার এ খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভাইস চেয়ারম্যানের এক ঘনিষ্ঠজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়ার পরও গ্রেফতার হননি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে (স্মারক নং -১৪৫০, তারিখ: ২১-০৬-২০১৬ খ্রিঃ ও আরেক স্মারক নং- ২১২২, তারিখ: ২৭-০৬-২০১৬ খ্রিঃ) মুরাদনগরে নবঘটিত বাঙ্গরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরারর পাঠানো হলেও পুলিশ তাকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি। একের পর এক সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে তিনি উপজেলার সমস্ত কার্যক্রমে অংশ নেন এ প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রফিকুল ইসলামের এক ঘনিষ্ঠজন জানান, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় আসার পরও সেখানকার অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি সেটি গোপন রেখেছেন।
বর্তমানে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তিনি এলাকা ছেড়েছেন। তবে তাদের এ সব কর্মকান্ডে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারিসহ কতিপয় ঠিকাদার। যারা বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ শেষে তাদের বিল ভাউচার ও বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের বলেন, আগের একটি মামলায় সাজা হওয়ার পর তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে অপসারন করায় তার বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।