বাংলার দর্পন ডটকম :
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন বাংলাদেশময় হয়ে উঠেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। কাল তিনি ঢাকা ছাড়ছেন। এবার সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে তিনিই যেন মূল ব্যক্তিত্ব। তাঁর অপেক্ষাতেই যেন অপেক্ষা করছে জাতিসংঘ। ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেবেন। এই ভাষণে আনুষ্ঠানিক ভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দেবেন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব। আর এই ভাষণ শোনার জন্য মুখিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানবিকতা এবং সাহসে মুগ্ধ বিশ্ব। এর মধ্যেই প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের মহাসচিব, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সবাই বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পৌঁছে গেছে অনন্য উচ্চতায়।
শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ইস্যুতে আলো ছড়াবে বাংলাদেশ। নানা ইস্যুতে অনুকরণীয় উদাহরন হিসেবে উঠে আসবে বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে পার্শ্ব বিষয় (সাইড ইভেন্ট) হিসেবে আলোচনায় আসবে ‘হেলথ ইজ এভরিওয়ানস বিজনেস’। ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্টের আয়োজনে এই ইভেন্টে বাংলাদেশের ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ রোল মডেল দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হবে। জনগণের অংশগ্রহনে কীভাবে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করা যায়-তা দেখানো হবে কমিউটনিটি ক্লিনিক এর মাধ্যমে। ওই দিনই ‘রোল ব্যাক ম্যালেরিয়া’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে ‘ব্র্যাক’ বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরবে। ২০ সেপ্টেম্বর গ্লোবাল বিজনেস ফোরামের সভায় আলো ছড়াবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হত দরিদ্র একটি রাষ্ট্র কীভাবে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে এলো, সে গল্প বিশ্বকে বলবেন শেখ হাসিনা।
২১ সেপ্টেম্বর পপুলেশন কাউন্সিলের ‘পরিবার পরিকল্পনায় নব প্রজন্মের নেতৃত্বে’ উঠে আসবে বাংলাদেশের মাঠ কর্মীদের সাফল্য গাঁথা। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর ইউএন ওমেনের সাইড ইভেন্টে ‘বাংলাদেশ’ সফল দেশ হিসেবে উপস্থাপিত হবে। ‘উদ্ভাবন প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ’ শিরোনামে এক অধিবেশনে তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর উদ্যোগ ‘জয়িতার’ মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায় বাংলাদেশের নারীদের অসামান্য সাফল্য গাঁথা তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ১৮ সেপ্টেম্বর আলোকিত করবেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভা। বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। ২০ সেপ্টেম্বর তিনি টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরবেন। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ‘গোলকিপার’ অধিবেশনে। এখানে তাঁর নেতৃত্বের জন্য তাঁকে সম্মানিত করা হবে।
এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন শিক্ষার নানা সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশ উঠে আসবে অনুকরণীয় উদহারণ হিসেবে, সাফল্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে।
১৯৭৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ পায়। ওই বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের আত্নপ্রকাশ ঘোষণা করছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর বাংলাদেশ জাতিসংঘে বরাবরই ছিল উপেক্ষিত, আলোচিত এবং প্রবলেম কান্ট্রি হিসেবে।
গত কয়েক বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘে আলো ছড়িয়েছে। আর এবার জাতিসংঘের সব আলোই যেন বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার উপর।
সম্পাদনা /সৈয়দ মনির অাহমদ