Main Menu

সুবর্ণচরে প্রাক্তন স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন, আটক ১

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী
নোয়াখালী সুবর্ণচরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রাক্তন স্ত্রীকে ঘর বন্ধী করে রড এবং টর্চলাইট দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। পরে আহতের বড় ভাই সাজ্জাদ ৯৯৯ ফোন করলে চরজব্বার থানা পুলিশ আহত শারমিনকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত জহিরকে আটক করে। ভুক্তভোগি বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন আছেন।

গতকাল ২০ জুন রোববার সন্ধ্যা ৭টায় ঘটনাটি সুবর্ণচর উপজেলার ৫নং চরজুবিলী ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বার গ্রামের দেলোয়ারের বাড়ীতে।

ভুক্তভোগি শারমিন আক্তার বলেন, ২০১৪ সালে চরজুবিলী ইউনিযনের দক্ষিন চরবাগ্যা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান ওরপে মোস্তফা সর্দারের পুত্র জহিরুল ইসলাম (৩৫) সাথে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় যৌতুকের জন্য শারমিনকে মারধর করতো। জহিরের নির্যাতনে ১ বছর আগে শারমিন জহিরকে ডিপোর্জ দিয়ে দেন। বিয়ের পূর্বেই জহির নানা প্রলোভন দেখিয়ে শারমিনের বাড়ির সামনে ঘর করার জন্য শ্বশুর দেলোয়ারের কাছ কাছ থেকে কৌশলে কিছু জমি রেজেস্ট্রি করে নেয়। বিগত ৪ মাস আগে সালিশ বৈঠকে জহিরের সাথে শারমিনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শারমিনের ঘরে জন্ম নেয়া ২ সন্তান ফারিয়া ইসলাম (৬) এবং সাইদুল ইসলাম (৪) কে জহিরুল নিয়ে যায়। ৩ মাস আগে জহির পূনরায় বিয়ে করেন, বিয়ে করার পর জহির ফারিয়াকে তার পিতা মোস্তাফিজের কাছে রেখে আসেন এবং ছোট ছেলে সাইদুলকে তার কাছে রেখে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শারমিনের মা বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে জহিরের নতুন স্ত্রী পারুল বেগম প্রায় সাইদুলকে মারধর করে, শারমিনের বাড়ির দরজায় জহির ঘর করার সুবাদে শারমিন শিশুর ওপর নির্যাতন দেখতে পায়। গতকাল ২০ জুন সন্ধ্যায় পূনরায় পারুল সাইদুলকে মারধর করলে সাইদুলের চিৎকার শুনে শারমিন বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে বিষয়টি দেখতে থাকে পারুল শারমিনকে দেখে ঘরে ডেকে নেন। সাইদুলকে মারধরের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে পারুল অন্য রুমে গিয়ে জহিরকে ফোন করে জহিরের নির্দেশ মত পারুল ঘরের দরজা আটকে দেয় কিছুক্ষণ পর জহির এসে ঘরে প্রবেশ করে শারমিকে বিদেশি টর্চলাইট দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শারমিনের মাথা ফাটিয়ে দেয়। শারমিনের শোরচিৎকারের তার মা, ভাই-বোন দৌঁড়ে এসে শারমিনকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যার্থ হলে ৯৯৯ ফোন করলে চরজব্বার থানা পুলিশ ভুক্তভোগিকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে জহিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আত্বীয় স্বজনরা শারমিনকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শারমিনের অবস্থার অবনতি হলে ২১ জুন সোমবার তাকে নেয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শারমিনের ভাই সাজ্জাদ বলেন, আমার বোনকে বিয়ে করার পর থাকার জন্য ঘর করবে বলে আমার বাবাকে ফুঁসলিয়ে আমাদের বাড়ীর সামনে কিছু জায়গা নাম মাত্র মূল্য কিনে নেয়, সে ঘর নির্মান করার পর টাকার জন্য আমার বোনকে প্রায় নির্যাতন করতো, এখন আমার বোনের সাথে সম্পর্ক শেষ করে আমাদের জায়গা সম্পদ আতœসাৎ করার পায়তারা করছে,২০ জুন জহিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার বোনকে ডেকে নিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে হত্যার উদ্যেশ্যে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত আহত করে । এ ঘটনায় শারমিনের বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত পারুলের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শারমিন শিশু সাইদুলকে তার কাছে নেয়ার চেষ্টা করে এ সময় আমি বাঁধা দিলে শারমিনের সাথে আমার হাতাহাতি হয়। পরে আমি জহিরকে ফোন করি, জহির এসে শারমিনকে টর্চলাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়।

চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, শারমিনের বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে , তদন্ত করে আইনী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

মো: ইমাম উদ্দিন সুমন/বাংলারদর্পন

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *