Main Menu

নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে ব্যস্ত পুলিশ

নোয়াখালী প্রতিনিধি: দফায় দফায় গোয়েন্দা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবা সহ আটক হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তবুও থেমে নেই এই কারবার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে,দেশে যে পরিমাণ ইয়াবা ধরা পড়ে, তার ছেড়ে কয়েকশত গুন বেশী প্রচার হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়।

সম্প্রতিক সময়ের হিসেবে ইয়াবার পরিসংখ্যানই বলে দেয় প্রতিদিনই দেশে কোটি-কোটি টাকার ইয়াবা আসছে। ভয়ংকর ইয়াবার বিস্তার এখন শুধু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একে বারে আজপাড়াগাঁয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু জেলা শহরে নয় পুরো জেলা,উপজেলা, এমনকি গ্রামে- গঞ্জেও হাত বাড়ালে ইয়াবা পাওয়া যায়। গত ক’দিন রাজনৈতিক’ অস্থিরতায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে ব্যস্ত সময় পার করছে পুলিশ। এই সুযোগে ইয়াবার বেচাকেনা কয়েকগুন বেড়ে গেছে।

মাদকাসক্তদের সাথে কথা বলে যানা যায় গেছে, গত কয়েকদিন পুলিশের ব্যস্ততায় রাজধানীর পাড়ায় মহল্লায় দেদারছে বিক্রি হয়েছে ইয়াবা। পুরনো স্পটগুলোসহ নতুন নতুন স্পটেও পকাশ্যে বেচাকেনা চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তসুত্রে জানায়, নোয়াখালী ব্যবসায়ী,চাকুরীজীবি ও স্বচ্ছল পরিবারে ডুকে পড়েছে মরণ নেশা ইয়াবা। এতে করে সংসার জীবনে অশান্তি ও ভাঙ্গন লেগেই আছে। ভুক্তভোগীদের মতে,মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ বরাবরেই জিরো টলারেন্স দেখানোর কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে,কোনো কোনো এলাকায় পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলে ইয়াবা বেচাকেনা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান মতে, এ জেলায় বিগত ৫ বছরে দেশে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে ৮১ গুন। উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্য থেকে এই তথ্য বের করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। তবে বাস্তবতার পরিসংখ্যানের সাথে বাস্তবতার অনেক ফারাক। ক্ষুদ্র মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিতপ্তরের জরিপে কর্মকর্তারাই মনে করেন এর চেড়েও বহুগুন বেশী ইয়াবা বেচাকেনাও ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে যানা গেছে পুলিশ তৎপর হলে মাদকের বেচাকেনা অনেকটা কমে যায়।

থানাগুলোতে মাদক বিরোধী বিশেষ টিম গঠন করার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা গাঢাকা দিতে বাধ্য হয়। সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্তিরতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন আটক অভিযানে ব্যস্ত সময় কাটায় পুলিশ। এতে করে মাদক স্পটগুলোতে পুলিশের নিয়মিত টহল ব্যহত হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৎপর হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায়ীরা গত কয় দিনে জেলার কোন না কোন এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে যানায়, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে থাকায় চিহ্নিত মাদক স্পোট গুলোতে নিয়মিত বেচাকেনা চলছে।

জেলা সদরের ধর্মপুর, বাংলাবাজার, ভাটিরটেক, জনতা বাজার, উত্তর ওয়াফদা বাজার, কালিতারা বাজার, সোনাপুর ধান হাটা, বাসষ্টান্ড, কাটপট্রি, অশ^দিয়া ব্রিজ, সোনাপুর কলেজ গেইট, উত্তর সোনাপুর, দত্তের হাট ট্রাক ষ্টান্ড, দত্ত বাড়ীর মোড়, সদর উপজেলা পরিষদ গেইট কদমতলীর মোড়,টাউন হল মোড়,পুরাতন বাসষ্টান্ড, জেলা প্রশাসকের সিএনজি ষ্টান্ড, লক্ষীনারায়ন পুর, মাইজদী কোর্ট ষ্টেশন, নতুন বাসষ্টান্ড, নাপিতের পোল, রায়বাহাদুরের মোড়, বিনোদপুর ইউনিয়ন সহ প্রতি নিয়ত দুর দুরন্ত থেকে মাদক সেবনকারীরা এসে মাদক নিয়ে যায়। এই সব স্পটে প্রকাশ্য ইয়াবা বেচা কেনা হচ্ছে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নবীর হোসেন জানান, এই থানায় মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে প্রায় মামলা হচ্ছে।

ভোক্তভোগীরা জানান, সোনাপুর দত্তের হাটের, আইযুবপুরের আশপাশে গত কয়েকদিন প্রকাশ্য ইয়াবা বেচাকেনা হয়েছে। ভাটিরটেক বাজার এলাকায় এক জন ভোক্তভোগী বলেন প্রায় এক বছর ধরে মাঝে মধ্যে পুলিশের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই বাজারে ভোক্তভোগীরা এখানে ইয়াবার হাট বসে বলে উল্লেখ করে বলেন এলাকার মানুষ সব কিছু চোখে দেখলেও ভয়ে কিছু বলে না। আর পুলিশকে খরব দিলেও ব্যস্ততায় আসতে পারে না।

দত্তের হাটের আইযুবপুরের এক বাড়ীর মোড়ে প্রকাশ্য ইয়াবা বেচাকেনা চলে। জানালেন স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন প্রায় ইয়াবা ব্যবসায়ী থানার এক দারোগাকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্য ইয়াবা ব্যবসা চলছে। বহু দিন ধরেই থানার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে কিছু সোর্সের প্রচুর যোগসাজসে এখানকার মাদক ব্যবসা জমজমাট। জেলা সদরের অশ^দিয়া ব্রিজের বাসিন্দারা জানায়, এদের মধ্যে অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসায়ী।

শুধু অশ^দিয়া নয় এই জেলার প্রতিটি থানায় এলাকায় মাদকের ব্যবসা এখন জম জমাট। দিনে রাতে অনেকটা প্রকাশ্যই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, পেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য। এই কাজে প্রধান ভুমিকা পালন করছে থানা পুলিশের কতিপয় সোর্স স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ছাত্র নেতা সহ কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসীরা






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *